ছবি : প্রতিনিধি
মাদারীপুর: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘টিকটক কলেজ’ নামে সমালোচিত মাদারীপুর সদর উপজেলার মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখা থেকে ১৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র দুজন। ফেল করেছেন ১১ জন। পাসের হার ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, শিক্ষকসংকট ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষকসংকট এবং বেতন পরিশোধে অনিয়মের কারণে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে তিনটি বিভাগ নিয়ে কলেজ শাখাটির অনুমোদন পায়। তবে চালুর পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক নয়। আগের দুই বছরের ফলাফলও আশানুরূপ ছিল না। চলতি বছরের ফলাফল সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, “আমাদের ঠিকমতো আইসিটি ক্লাস হয়নি। ক্লাসের জন্য প্রতিনিধিকে শিক্ষকদের ডাকতে হতো। একজন স্যার আরেকজন স্যারকে পাঠানোর চেষ্টা করতেন। প্রধান শিক্ষককে বারবার বলার পরও কার্যকর পদক্ষেপ দেখিনি। বিনা মূল্যে ভর্তির কথা বলা হলেও পরে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয় না। শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি শিক্ষকদের বেতন পরিশোধেও সমস্যা রয়েছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়েছেন তারা।
প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, সময়মতো বেতন দেওয়া হয় না। কোন শিক্ষক কোন বিষয়ের ক্লাস নেবেন, তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয় না। এমনকি শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখেও ক্লাস দেওয়া হয়।
এক শিক্ষক বলেন, “হিসাববিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা একজন শিক্ষককে ইংরেজি ক্লাস দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ স্থানীয় প্রভাবের কথা তুলে ধরেন বলে আমাদের অভিযোগ। এ কারণে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে চান না।”
এদিকে, ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মন্তব্যে কলেজটিকে ‘টিকটক কলেজ’ বলে কটাক্ষ করেন ব্যবহারকারীরা। প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান ও একাডেমিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমরা দেখেছি এবং শুনেছি। মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ফলাফল একেবারেই খারাপ হয়েছে। কী কারণে এমন ফলাফল হয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখব।”
পিএস