এনসিপিতে শিবিরের অদৃশ্য বলয়, নেপথ্যে কোন সমীকরণ?

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
এনসিপিতে শিবিরের অদৃশ্য বলয়, নেপথ্যে কোন সমীকরণ?

ফাইল ছবি

বগুড়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের অর্ধশতাধিক সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীর জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদানের ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৩০ অক্টোবর বগুড়া জেলা কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা এনসিপিতে যুক্ত হন। কিন্তু এই যোগদানের পর কেবল স্থানীয় পর্যায়েই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও তৈরি হয়েছে নানামুখী সমীকরণ ও বিতর্ক।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অতীতে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা ব্যক্তিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার দাবি, এনসিপির অন্দরে শিবিরের সাবেক নেতাদের একটি সুসংগঠিত বলয় তৈরি হচ্ছে। এর ফলে নতুন ধারার রাজনীতির কথা বলা এই দলটি বাস্তবে কতটা স্বতন্ত্র এবং কতটা জামায়াত বা শিবিরের রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এনসিপির নেতৃবৃন্দ অবশ্য এই ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে একে গণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তাদের বক্তব্য, দেশের মানুষ গতানুগতিক ধারার রাজনীতি বাদ দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চায় এবং সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলটিতে যোগ দিচ্ছেন। বগুড়ায় এনসিপির কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবে এই যোগদানকে দেখছেন দলটির দায়িত্বশীলরা।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এই যোগদানকে অপপ্রচার বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, এনসিপিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে জামায়াত বা ছাত্রশিবিরের কোনো বর্তমান সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। তবে শিবিরের সাবেক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে এনসিপি তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার কৌশল নিয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

ঢাকার কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত শিবিরের সাবেক কর্মীদের এই বলয় আগামী দিনের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এসএইচ 

Link copied!