ছবি: সংগৃহীত
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের অধিকাংশ কলেজে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষক, গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিকে দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ফলাফল অনুযায়ী, কাঁঠালিয়া উপজেলার মনস্বিতা মহিলা ডিগ্রি কলেজে ৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪৬ জন (পাসের হার ৬২.১৬%), জিপিএ-৫ একজন। আমুয়া শহীদ রাজা ডিগ্রি কলেজে ২৩১ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১১৭ জন (পাসের হার ৫০.৬৫%)। তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সরকারি কলেজে ২২৪ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১১০ জন (পাসের হার ৪৯%), জিপিএ-৫ একজন। পশ্চিম ছিটকী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে ২৫ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১২ জন।
রাজাপুর উপজেলার আলহাজ লালমোন হামিদ মহিলা ডিগ্রি কলেজে ২১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১২১ জন (পাসের হার ৫৪%), জিপিএ-৫ তিনজন। বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজে ২৮৯ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৮৯ জন (পাসের হার ২৭%)। রাজাপুর সরকারি কলেজে ১৬৪ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৪২ জন (পাসের হার ২৫%)। আর আব্দুল মালেক ডিগ্রি কলেজে ৯৫ জনের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১৮ জন (পাসের হার ১৯%)।
ফলাফলের এই চিত্রকে নাজুক পরিস্থিতির প্রতিফলন উল্লেখ করে এমপি জামাল বলেন, শিক্ষার্থীরা কেন পিছিয়ে পড়ছে তা খুঁজে বের করার সময় এসেছে। এ ব্যর্থতার দায় শিক্ষক, গভর্নিং বডি, ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবক সমাজ কেউই এড়াতে পারেন না। নিয়মিত ক্লাসের অভাব, তদারকির দুর্বলতা ও দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য এমন ফল এনেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, শিক্ষার মান নিয়ে কোনো অবহেলা বরদাশত করা হবে না।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ বিশ্লেষণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এদিকে প্রতিকূলতার মধ্যেও উত্তীর্ণদের অভিনন্দন এবং কাঁঠালিয়ার মনস্বিতা মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভালো ফল করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান সংসদ সদস্য। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এসএইচ