জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে সহায়তা

২৫ প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আবেদন

  • আদালত প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম
২৫ প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আবেদন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-আন্দোলন দমন প্রক্রিয়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতার অভিযোগে দেশের ২৫ জন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই আবেদন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন (বৈছাআ)।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের দপ্তরে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে নাম উল্লেখ করা ২৫ জন ব্যবসায়ীর পাশাপাশি আরও অন্তত ২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ দাখিলের পর সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ জানান, গত বছরের জুলাই মাসে ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার সময় এসব ব্যবসায়ী নেতা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে তারা ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ‘নৈরাজ্য’ আখ্যা দিয়ে সরকারকে আর্থিক, নৈতিক ও নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দেন—যা পরবর্তীতে দমন-পীড়ন আরও তীব্র করতে ভূমিকা রাখে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাদের নাম রয়েছে অভিযোগে

অভিযোগপত্রে নাম থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন : সালমান এফ রহমান, বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা; মোহাম্মদ সাইফুল আলম : এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান; আহমেদ আকবর সোবহান (শাহ আলম) : বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান; নাসিম মঞ্জুর : এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান; নজরুল ইসলাম মজুমদার : নাসা গ্রুপের তৎকালীন চেয়ারম্যান; মাহবুব আলম : সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি; এস এম মান্নান কচি : সাবেক বিজিএমইএ সভাপতি।

এ ছাড়াও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মো: সানি, বিকেএমইএ সভাপতি মো: হাতেম এবং দোকান মালিক সমিতির তৎকালীন সভাপতি হেলাল উদ্দিনসহ আরো বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আন্দোলন দমনে ‘সহযোগিতার বৈঠক’

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২২ জুলাই দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকার সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব ব্যবসায়ী নেতা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে মত দেন। তারা সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং আন্দোলন দমনে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের দাবি, ওই বৈঠক ও সমর্থনের ফলে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার শামিল হতে পারে।

এম

Link copied!