ফাইল ছবি
দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে নতুন পে স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। তবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সরকার।
সরকারি সূত্র জানায়, আর্থিক সংকট ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই মুহূর্তে নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা সম্ভব নয়। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
যদিও পে স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার, তবে এ লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ একটি কাঠামো তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। পরে তা নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এই প্রতিবেদনের আলোকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি গণমাধ্যমে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই বাস্তবসম্মত।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, পে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পে কমিশনের প্রতিবেদনে শুধু বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব নয়, বরং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আবাসন ব্যয় ও শিক্ষা খরচকে প্রধান সূচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
এই পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বেতন নির্ধারণের মূল রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন। আলোচনায় থাকা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ হারে এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীরা ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পেতে পারেন।
২০২৫ সালে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ওই বছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা ঘোষণার বিষয়টি বাজেট আলোচনায় উঠে আসে। তবে শেষ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার পরিবর্তে সরকার পে স্কেলের দিকেই অগ্রসর হয়।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এটি কার্যকর হয় ২০১৫ সালের ১ জুলাই। এর আগে সপ্তম বেতনকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০০৯ সালের ১ জুলাই।
সাধারণত পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার রীতি থাকলেও, অষ্টম বেতনকাঠামোর পর নয় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কাঠামো আসেনি। ফলে অনেক কর্মচারীর বেতন গ্রেডের সর্বশেষ ধাপে পৌঁছে গেছে।
এই বাস্তবতা ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় বেতন কমিশন গঠিত হয় ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। এটি জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তেই প্রায় সমাপ্ত হবে।
সব মিলিয়ে নতুন পে স্কেল নিয়ে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য। তবে সরকার ও কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্বাসে ভবিষ্যতে একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো আসবে-এমন প্রত্যাশাই এখন ভরসা।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :