ছবি: সংগৃহীত
প্রতিযোগিতা কমিশনের উপপরিচালকের বিরুদ্ধে অবৈধ ওয়াকিটকি ব্যবহার ও অননুমোদিত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক অভিযোগপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইকতেদার আলম।
অভিযোগে বলা হয়েছে, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১-এর ৫৫ ধারা লঙ্ঘন করে তিনি বিটিআরসি’র কোনো লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়াই ওয়াকিটকি ব্যবহার ও নিজের কাছে রেখেছেন, যা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি, ১৯৭৯-এর ১১ ও ১২ নম্বর বিধি লঙ্ঘন করে সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়াই ঢাকার তোপখানা রোড ও উত্তরা এলাকায় দুটি স্থানে মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় ও বাড়ি নির্মাণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের নির্দিষ্ট সীমার বেশি মূল্যের সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধান বা সরকারের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। একইভাবে আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ বা ক্রয়ের ক্ষেত্রেও পূর্বানুমোদন প্রয়োজন। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, এসব নিয়ম মানা হয়নি।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক সরকারের আমলে তিনি আটজন সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এ সময় নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি আওয়ামী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে হংকংয়ে প্রথম সচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ ইকতেদার আলম। তিনি বলেন, ওয়াকিটকি নয়, এটি মূলত শখের হ্যান্ড রেডিও, যা সীমিত পরিসরে ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং এর মাধ্যমে দূরপাল্লার কোনো যোগাযোগ করা হয় না।
ঢাকায় সম্পত্তি ক্রয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার নামে কোনো সম্পত্তি নেই, সবই তার বাবা-মায়ের নামে। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ সম্পর্কেও তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই বিভিন্ন পদে বদলি হয়েছেন, কোনো ধরনের প্রভাব খাটানো হয়নি।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :