মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর মধ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কা বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিদেশি সেনা উপস্থিতি হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এরই মধ্যে সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, আর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।
সংকট আরও জটিল হয়েছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে, যা সরাসরি দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। নিক্কেই ২২৫ ও কসপি সূচক ৪ শতাংশের বেশি কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের প্রতিফলন।
সংঘাত শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অনেক দেশ বিকল্প ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যদিও একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাও চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, তেহরান নিজস্ব শর্তে আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও এখনো সমঝোতার কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি নেই। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধার না হলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে পড়বে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :