ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসির পরিচালনা, করপোরেট গভর্ন্যান্স, আর্থিক ব্যয় এবং শেয়ারহোল্ডার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ডিএসইর এক সাধারণ শেয়ারহোল্ডার।
গত ১২ জুলাই পাঠনো আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ডিএসইর প্রশাসনিক কার্যক্রম, বিভিন্ন নিয়োগ, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আর্থিক ব্যয় এবং করপোরেট গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর ডিএসইর ১৩ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে সাতজন স্বতন্ত্র পরিচালক থাকলেও তাঁদের অনেকের পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত হচ্ছে না। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এতে আরও অভিযোগ করা হয়, বোর্ড সভার সম্মানী ও বিভিন্ন কমিটির বৈঠকের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল সভা হলেও সম্মানী ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সভা ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের জন্য ব্যয়বহুল হোটেলে অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, বিএসইসির অনুমোদিত অর্গানোগ্রামের বাইরে উচ্চ বেতনে অ্যাডভাইজার নিয়োগ, নির্দিষ্ট আইনজীবী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যয়বহুল লিগ্যাল ওপিনিয়ন গ্রহণ এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি।
এছাড়া ডিএসইর বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, এসব সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বেড়েছে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থের ওপর।
চিঠিতে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ডিএসইর নিয়োগ প্রক্রিয়া, আর্থিক ব্যয়, করপোরেট গভর্ন্যান্স, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয়।
এএইচ/এম
আপনার মতামত লিখুন :