ঢাকা: লিফট কেনার কথা উঠলে ক্রেতার প্রথম প্রশ্ন, দাম কত। বিডিস্টলের সার্চ ডেটাতেও লিফট নিয়ে খোঁজা প্রশ্নের মধ্যে এটাই সবার ওপরে। কিন্তু এর উত্তর একটা সংখ্যায় দেওয়া যায় না, কারণ একই ধারণক্ষমতার লিফটের দামেই অনেক সময় বিশাল ফারাক থাকে।
বিডিস্টলের লিফট ক্যাটাগরিতে এখন প্রায় ২৪০টি তালিকা আছে, যার বড় অংশ ফুজি, সিগমা ও এলজি ব্র্যান্ডের। অক্টোবর ২০২৬-এর তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, ৬৩০ কেজির আট জনের একটি ফুজি লিফট আছে প্রায় ১২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। অথচ একই ৬৩০ কেজি ক্ষমতার ১০ স্টপের হিটাচি বা শ্নাইডার লিফটের দাম প্রায় ৫২ থেকে ৫৫ লাখ টাকা। ফারাকটা চার গুণের বেশি।
এর পেছনে কয়েকটা জিনিস কাজ করে। স্টপ সংখ্যা যত বাড়ে, দরজা, শ্যাফট আর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কাজও তত বাড়ে, দামও ওঠে। ব্র্যান্ড ও উৎস দেশ, মোটরের ধরন, কেবিনের ফিনিশিং, এসবও হিসাবে আসে। তাই দুটো লিফটের দাম মেলানোর আগে ধারণক্ষমতার পাশাপাশি স্টপ সংখ্যা আর স্পেসিফিকেশন মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
লিফটের ধরনও বড় ভূমিকা রাখে। বিডিস্টলের ফিল্টারে লিফট এর ধরন পাঁচটিঃ যাত্রীবাহী, হাসপাতাল, মালবাহী, ডাম্বওয়েটার আর এসকালেটর। উদাহরণ হিসেবে তালিকায় ১০০ কেজির একটি ডাম্বওয়েটার ৯ লাখ টাকায়, ১০০০ কেজির একটি মালবাহী লিফট ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকায় আর একটি ক্যাপসুল হোম লিফট ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় আছে।
লিস্টিংয়ের দামের বাইরেও খরচ থাকে। ইনস্টলেশন, শ্যাফট বা সিভিল কাজ, জেনারেটর বা আইপিএসের সঙ্গে সংযোগ, জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা (এআরডি) আর পরে বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি, এসব অনেক সময় মূল দামে ধরা থাকে না। বিক্রেতাভেদে এগুলো আলাদা, তাই কোটেশন নেওয়ার সময় লিখিতভাবে জেনে নিতে হবে কোনটা দামের ভেতরে আছে আর কোনটা বাইরে।
ধারণক্ষমতা, ধরন আর ব্র্যান্ড ধরে অনেকগুলো মডেল ও বিক্রেতার দাম পাশাপাশি দেখে নিতে চাইলে বিডিস্টল-এ লিফট খুঁজে দেখা যায়। ওয়ারেন্টির মেয়াদ, বিক্রয়-পরবর্তী সেবা আর নিরাপত্তা সনদের কথাও বিক্রেতার কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো। তালিকাভুক্ত দাম সময়ের সঙ্গে বদলায়, আর চূড়ান্ত দাম ঠিক হয় ভবনের শ্যাফট, স্টপ আর পছন্দের ফিনিশিং দেখে। তাই কেনার আগে দু-তিনজন বিক্রেতার কাছ থেকে একই শর্তে কোটেশন নিয়ে মেলানোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
এসআই