ফাইল ছবি
দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমার পেছনে মূল কারণ হিসেবে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের দাম হ্রাসের বিষয়টি উঠে এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই মূলত এই দাম কমানো হয়েছে।
সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজার বা স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমলে বা বাড়লে তার প্রভাব দেশের খুচরা বাজারে পড়ে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকায় টানা চতুর্থবারের মতো দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে রোববার সকাল ১০টা থেকে নতুন দর কার্যকর হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকায় নেমেছে।
বাজুসের তথ্য বলছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১২৬ দফা স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ দফা দাম বাড়ানো হলেও ৬৫ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে গত বছর স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।
এদিকে স্বর্ণের দাম কমলেও দেশের বাজারে রুপার দাম সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৩৯১ টাকায় অপরিবর্তিত আছে।
বাজুস স্পষ্ট করেছে যে, স্বর্ণালংকারের ডিজাইন ভেদে মজুরি প্রযোজ্য হবে। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না। পাশাপাশি অলংকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার পূর্বের নিয়মই বহাল থাকবে।
এসএইচ