ফাইল ছবি
ঢাকা: ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ এর ১৮(ক) ধারা নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিতে একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মধ্যে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আগের মালিকদের ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে এমন ধারণায় অনেক আমানতকারী টাকা তুলে নিতে চাইছেন, কেউ কেউ মুনাফা ছাড়াই শুধু মূলধন ফেরত দাবি করছেন।
এ পরিস্থিতিতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া আগের মতো চলবে কি না, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে লিখিত ও স্পষ্ট বার্তা চান ব্যাংকগুলোর প্রশাসকরা। রোববার গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে তারা বিষয়টি তুলে ধরেন।
উল্লেখ, গত বছর এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। পরে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
সম্প্রতি পাস হওয়া আইনের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের দেওয়া অর্থের সাড়ে ৭ শতাংশ পরিশোধ করে আগের মালিকরা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন। এতে আমানতকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসকদের মতে, আগে থেকেই আমানত উত্তোলনে চাপ ছিল। পরে মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ৪ শতাংশ মুনাফার ঘোষণা কিছুটা স্বস্তি আনলেও নতুন আইনের কারণে আবার সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন আমানত আসা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ঋণ আদায়ও কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকের (সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক) মোট ঋণ ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা, যার ৮৪ শতাংশই খেলাপি। মূলধন ঘাটতি রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। এসব ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে, সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন এবং আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :