ডিএসইতে নিয়োগে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
ডিএসইতে নিয়োগে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ফাইল ছবি

ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও স্থায়ীকরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মানবসম্পদ বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন ইন্টার্নকে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ডিএসইতে জিএম (অডিট) ও জিএম (এইচআর) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তৎকালীন এইচআরডি প্রধান হারুন অর রশিদ পাঠান এবং কোম্পানি সেক্রেটারি অলক কুমার বসুকে জিজ্ঞাসাবাদ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং ব্যক্তিগত ফাইল যাচাই করলে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া জিএম (ফাইন্যান্স) পদে নিয়োগের সময় অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট পর্ষদ সদস্য শাহনাজ সুলতানাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের আরেকটি অংশে ডিএসইর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ারের বিরুদ্ধে তাঁর নিকটাত্মীয়দের প্রথমে ইন্টার্ন হিসেবে এবং পরবর্তী সময়ে স্থায়ী বা নিয়মিত চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নুজহাত আনোয়ার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন চাকরি প্রাপ্তদের সাথে তার আত্মীয়তার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যা আইন মেনেই করা হয়েছে। 

ডিএসইর মানবসম্পদ বিভাগের জিএম (এইচআর) হাসান তারেক চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ‘আইবি চৌধুরী’ নামে এক ইন্টার্নকে সরাসরি ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে স্থায়ীকরণ ও নিয়োগের প্রক্রিয়ায় রাখার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ইন্টার্নকে জিএম (এইচআর)-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তাঁকে ইন্টার্ন থেকে কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এতে ডিএসইর প্রচলিত নিয়োগনীতি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ওই ইন্টার্ন এইচআর বিভাগের এজিএম নাসির উদ্দিন রেজা এবং ম্যানেজার রাশেদুল হক রাজিবের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় ব্যবহার করে অতিরিক্ত প্রশাসনিক সুবিধা ভোগ করছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ইন্টার্ন অফিসের পরিবহন সুবিধা ব্যবহার করে সহকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং এসব তথ্য নিয়মিতভাবে মানবসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেন। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারীদের মতে, একজন ইন্টার্নকে কেন্দ্র করে এ ধরনের বিশেষ সুবিধা, প্রভাব বিস্তার এবং সহকর্মীদের ওপর নজরদারির অভিযোগ ডিএসইর কর্মপরিবেশে পারস্পরিক আস্থা ও পেশাদারিত্বের জন্য উদ্বেগজনক। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে নিয়োগপ্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

এএইচ/পিএস

Link copied!