‘সময় এলে অর্থনীতির মানদণ্ড সবাই দেখতে পাবে’

  • আবদুল হাকিম, ব্যাংকক (থাইল্যান্ড) থেকে | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘সময় এলে অর্থনীতির মানদণ্ড সবাই দেখতে পাবে’

ছবি : প্রতিনিধি

ঢাকা: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও নীতির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক একমত বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের নেওয়া নীতির সঙ্গে সংস্থাটির ঐকমত্য রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থনৈতিক পূর্বাভাস এবং সরকারের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না। প্রত্যেক সংস্থা নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দেয়। সরকারও নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে। সময় এলে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক দেখে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কারও প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চাই না। এটা তাদের হিসাব, তারা দিয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি, তারা তাদের মতো করছে। আমাদের মধ্যে যে সহযোগিতা দরকার, সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে—এটাই মূল কথা।’

অর্থনৈতিক নীতিতে বিশ্বব্যাংকের সমর্থন

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের বোঝা বহন করতে হচ্ছে সরকারকে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও রয়েছে। এসব বাস্তবতা বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে বলে জানান তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য সরকার যেসব নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত। বাংলাদেশের পাশে থাকতে সংস্থাটি আগ্রহী এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতেও প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পর আগামী দিনের জন্য যে কর্মসূচি ও উন্নয়নের গতিপথ নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে সরকার। এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে একটা জিনিস পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। আমি অনেকগুলো ভুল প্রতিবেদন দেখতে পাচ্ছি এখানে-সেখানে। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে একটা ফলোআপ হবে। এটা একটা প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে। এ বিষয়ে ঢাকাতেও আলোচনা চলবে। এখনকার আলোচনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। বরং ভবিষ্যতে দুই পক্ষের যৌথ কার্যক্রম ও সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে।

তবে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে অংশীদারত্ব

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের সামঞ্জস্য রয়েছে। কীভাবে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশও নিজস্ব প্রস্তাব তুলে ধরেছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।

বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আশা

মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির পূর্বাভাসের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বাজেটে যেসব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, সেগুলো অর্জন করতে পারবে বলে আশাবাদী। তবে অন্য সংস্থার পূর্বাভাসের সঙ্গে বিতর্কে না গিয়ে সরকারের নেওয়া কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং অর্থনৈতিক সূচকগুলোর অগ্রগতির ওপর গুরুত্ব দিতে চান তাঁরা।

সরকারের এই অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যেও। তাঁর মতে, পূর্বাভাস নিয়ে বিতর্কের চেয়ে অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক মানদণ্ডের বাস্তব চিত্রই সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি তুলে ধরবে।

এএইচ/পিএস

Link copied!