চার মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫.৮২ শতাংশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
চার মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫.৮২ শতাংশ

ফাইল ছবি

ঢাকা: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে দেশ থেকে ১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। 

গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৯৯ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) সংকলিত পরিসংখ্যানে এ চিত্র উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে তুলনামূলক বেশি। এ খাতে রপ্তানি ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭৩ কোটি ডলারে। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬০২ কোটি ডলার। মোট পোশাক রপ্তানিতে নিট পোশাকের অংশ এখন ৫৬ দশমিক ২ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে বেশি: প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। জুলাই-অক্টোবর সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ২৮৫ কোটি ডলারের পোশাক, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছিল ২৫৮ কোটি ৭১ লাখ ডলারের পোশাক।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির অংশও বেড়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অংশ ছিল ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বেড়ে হয়েছে ২০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। দেশটিতে নিট ও ওভেন—দুই ধরনের পোশাক রপ্তানিতেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। এর মধ্যে ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়ে ১৭৫ কোটি ডলার এবং নিট পোশাক রপ্তানি ১১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপের বাজারে কমেছে প্রবৃদ্ধি: বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে এ বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির গতি তুলনামূলক কম। আলোচ্য চার মাসে ইইউতে রপ্তানি হয়েছে ৬৪৩ কোটি ১৭ লাখ ডলারের পোশাক, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এ বাজারে রপ্তানি হয়েছিল ৬২৫ কোটি ৭২ লাখ ডলারের পোশাক।

মোট পোশাক রপ্তানিতে ইইউর অংশও কমেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অংশ ছিল ৪৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে নেমে এসেছে ৪৬ দশমিক ৭৯ শতাংশে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে স্পেনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। দেশটিতে রপ্তানি ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে জার্মানিকে ছাড়িয়ে স্পেন এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার। জার্মানিতে রপ্তানি প্রায় অপরিবর্তিত থেকে হয়েছে ১৪৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

অন্যদিকে ফ্রান্সে রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ইতালিতে ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ডেনমার্কে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও রোমানিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে।

অপ্রচলিত বাজারেও বাড়ছে রপ্তানি: প্রচলিত বাজারের বাইরে অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এসব বাজারে রপ্তানি ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ২৩৭ কোটি ১৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মোট পোশাক রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশ বেড়ে হয়েছে ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ।

অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে রপ্তানি ১০৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়ে ২০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার থেকে ২০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার নয়, বরং ২০ কোটি ৬৫ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ বাজারে রপ্তানি ছিল ৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ তুরস্কে রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

এ ছাড়া ব্রাজিলে রপ্তানি ৩৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং মেক্সিকোতে ১৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে ভারত, চীন, রাশিয়া ও নিউজিল্যান্ডে রপ্তানি কমেছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ১৬৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। কানাডায় রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৪১ শতাংশ, হয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি ২৯ লাখ ডলার।

বাজারনির্ভরতা কিছুটা কমেছে: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এই দুই বাজারে মোট রপ্তানির ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ অপ্রচলিত বাজারে তুলনামূলক বেশি প্রবৃদ্ধির কারণে প্রধান দুই বাজারের ওপর নির্ভরতা সামান্য কমেছে।

তবে তৈরি পোশাক রপ্তানির এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক আমদানির তথ্যের সময়কাল ও উৎস এক নয়। এখানে রপ্তানির তথ্যটি বাংলাদেশের জুলাই-অক্টোবর সময়ের ইপিবির পরিসংখ্যানভিত্তিক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির তথ্যটি সেপ্টেম্বর মাসের এবং তা ওটেক্সার (OTEXA) পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি। তাই দুই তথ্যকে একই সময়ের রপ্তানি-আমদানির তুলনা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

এএইচ/পিএস

Link copied!