ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের জয়লাভের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
শনিবার বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক হামলার ঘটনা তারা তালিকাভুক্ত করেছেন। তাঁর মতে, ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে দেওয়ার প্রত্যাশা থেকে জুলাইয়ের আন্দোলন হয়েছিল, কিন্তু এখনো একই ধরনের সংঘাত ও সহিংস রাজনীতি দেখা যাচ্ছে, যা হতাশাজনক।
তিনি বলেন, নতুন দায়িত্ব পাওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে অবশ্যই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে শিক্ষার্থীরা আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে যে হুমকির রাজনীতি শুরু হয়েছে তা অপ্রত্যাশিত। একটি নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকারকে দ্রুত বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সারা দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা পুরো জাতিকে হতাশ করেছে। ক্ষমতার দাপটে হল দখল বা হুমকির রাজনীতি চলতে পারে না এবং এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের এক দিন পর থেকেই ১১-দলীয় জোট-সমর্থিত শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, আগে যেভাবে এসব ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচার পেত, এখন তা হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জসহ শতাধিক এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি সমর্থিত হামলার ঘটনা ঘটছে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার বিরোধীদের দমন-পীড়নের পথে হাঁটবে না এবং আন্দোলনে নামতে বাধ্য করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে না। তাঁর মতে, নির্বাচনের পর এত দ্রুত হামলা-সংঘাতের চিত্র অতীতেও খুব কম দেখা গেছে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :