জুলাইয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকদের সব বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
জুলাইয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকদের সব বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসেই মাদ্রাসা শিক্ষকদের সব বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।

রোববার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষককে ট্যাব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম গড়ে তোলা হবে। এসব শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা পাঠদান, পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতি ডিজিটালভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।

মন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে। এছাড়া সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য কমাতে ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ম্যাপিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু হয়েছে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিক এডুকেশন আইডি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে এসে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় ৩০০ শিক্ষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো জন্মের পর থেকেই যদি একটি সমন্বিত পরিচয় নম্বর চালু থাকত, তাহলে আলাদা করে ইউনিক এডুকেশন আইডির প্রয়োজন হতো না। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে। এ কর্মসূচির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া সোমবার বিকালে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্টার্টআপ ইনোভেশন শোকেসের উদ্বোধন হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে সারাদেশে বিএনসিসির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার হিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাম খিয়াং মিলানের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে বিদ্যালয়টি চালিয়ে রাখতে তিনি নিজেই ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পর্যটক পরিবহন করেন। সেখান থেকে পাওয়া আয়ের একটি বড় অংশ বিদ্যালয়ের পেছনে ব্যয় করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষকের বেতন দিতে প্রতি মাসে প্রায় ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় চলতি মাসে বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে ১০০ কোটি টাকার ব্যবস্থা করেছেন এবং আগামী জুলাই মাসে বাকি অর্থও ছাড় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষকদের সব বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।

এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভাতা জটিলতার বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২০ সাল থেকে অবসর নেওয়া অনেক শিক্ষক এখনও কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসরভাতার অর্থ পাননি। বিষয়টি সমাধানে সরকার কাজ করছে।

এম

Link copied!