যেসব কারণে এসএসসির ফলাফলে ধস

  • সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
যেসব কারণে এসএসসির ফলাফলে ধস

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সার্বিক ফলাফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত বছরের তুলনায় এবার গড় পাসের হার প্রায় ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশে। একই সঙ্গে আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যাও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষা বোর্ডের কর্তাব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে মূলত পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইংরেজি ও গণিতে ব্যাপক বিপর্যয়
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় সব শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার কমে যাওয়ার মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে ইংরেজি ও গণিত বিষয়। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, প্রতিবারের মতো এবারও এই দুটি মৌলিক বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজিতে ৬৬.৬৪ শতাংশ ও গণিতে ৬৯.৬১ শতাংশ এবং বরিশাল ও সিলেটে ইংরেজিতে পাসের হার ৬৯ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। অন্যদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে পাসের হার ভালো হলেও ইংরেজি ও গণিতের ক্ষতি তা পুষিয়ে নিতে পারেনি।

খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা ও নিরপেক্ষতা
শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, উত্তরপত্র মূল্যায়নে ইচ্ছেমতো নম্বর দেওয়ার ঢিলেঢালা ভাব এ বছর পুরোপুরি এড়িয়ে চলা হয়েছে। খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকেরা কঠোর ও সঠিক মানদণ্ড অনুসরণ করায় অযাচিত বাড়তি নম্বর পাওয়ার সুযোগ ছিল না। খাতা মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেন, ইচ্ছেমতো নম্বর দেওয়ার নিয়ম নেই; মন খুলে গান গাওয়া গেলেও খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মন খুলে নম্বর দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পরিশ্রমে ঘাটতি
শিক্ষামন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পরীক্ষার খাতায় পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির প্রকৃত প্রতিফলনেই এই ফলাফল তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ঠিক যতটুকু শ্রম ও মনোযোগ দিয়েছে, তাদের পরীক্ষার ফলাফলেও ঠিক তেমনই প্রতিফলন ঘটেছে। পরিশ্রম ও সঠিক প্রস্তুতির ঘাটতিই চূড়ান্ত ফলে প্রভাব ফেলেছে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের ফলাফল বিপর্যয়
সারাদেশের গড় পাসের হার তলানিতে নামার পেছনে বড় ধাক্কা দিয়েছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। সাধারণ ৯টি শিক্ষাবোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ হলেও কারিগরি বোর্ডে পাসের হার নেমেছে ৫৮.২০ শতাংশে এবং মাদ্রাসা বোর্ডে তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫.৪৯ শতাংশে। এই দুই বোর্ডের বড় ধরনের পতন জাতীয় গড়কে নিচে নামিয়ে এনেছে।

শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি
দেশের প্রান্তিক ও মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পারফরম্যান্স ফলাফল বিপর্যয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এ বছর সারাদেশে ৩১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, যা আগের বছর ছিল ১৩৪টি। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়া সার্বিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এসএইচ 

Link copied!