ক্যাম্পাস
প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের উপাচার্য

সিজেডএন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ০৬
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে তিনি ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উপাচার্যের বের হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে সোমবার রাত ৮টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। নিজের পদ ধরে রাখতে নবনিযুক্ত উপাচার্য মদুনাঘাট ও বহদ্দারহাট টার্মিনালে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলা করিয়েছেন। এসব ঘটনার পর তাকে আর উপাচার্য হিসেবে মেনে নিতে রাজি নন তারা।
শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ও তার সহযোগীদের উপাচার্য ভবন ছেড়ে যাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছিল। তবে তারা ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা ভবনটি তালাবদ্ধ করেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম নিজ হাতে পদত্যাগপত্র লিখে দিলে অথবা সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলে ভবনের তালা খুলে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তাকে ও তার সহযোগীদের নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগের সুযোগ দেওয়া হবে। এ সময় তারা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানান। অন্যথায় তালা না খোলার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন তারা।
এদিকে, উপাচার্য ভবনে অবস্থানরত ব্যক্তিদের মানবিক সংকট বিবেচনায় বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রাখার অনুরোধ জানাতে সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে আসেন রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা। রাত ১০টার দিকে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উপাযার্যের সঙ্গে দেখা করতে চান। শিক্ষার্থীরা তারা উপাচার্যকে প্রকাশ্যে আলোচনার দাবি জানান। তাদের এ শর্তে আলোচনায় রাজি হননি নবনিযুক্ত উপাচার্য।
এ সময় অংছিং মারমা বলেন, শুনেছি উপাচার্য খাবার, পানি ও বিদ্যুৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। তবে এখানে এসে জেনেছি, আপনারা খাবার ও পানির ব্যবস্থা রেখেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ, মানবিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা যায় কিনা- তা বিবেচনা করবেন। আমি শিক্ষার্থীদের কোনো কার্যক্রমের বিরোধিতা করতে আসিনি।
জবাবে শিক্ষার্থীদের পক্ষে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ২১ দিন ধরে আন্দোলন করছি, কিন্তু কোনো দিন চুয়েটের বাসে হামলা হয়নি। অথচ তিনি আসার পরপরই বাসে হামলা হয়েছে। এ ঘটনার পর আমরা কেউ তাকে উপাচার্য হিসেবে চাই না। তাকে উপাচার্য ভবন ত্যাগের আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও তিনি নিজ উদ্যোগে নিজেকে অবরুদ্ধ করেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ না করবেন, ততক্ষণ উপাচার্য ভবনের তালা খুলবে না। একজন উপাচার্য যখন তার সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান, তখন আমরা আর কোনো মানবিকতা প্রদর্শনের মতো অবস্থায় নেই।
এদিকে রাত দেড়টার দিকে খবর আসে, ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। তার সঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিকও ভবনের ভেতরে ঢোকেন।
ভেতরে প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে চিকিৎসক আবদুল্লাহ জানান, শাহরিয়ারের সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৭০ ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ১০০ মিলিমিটার পারদ। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। আরও একজন অসুস্থ বলে জানান চিকিৎসক। তবে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর প্রতিবাদে ওই রাতেই বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন ও গণঅবস্থান কর্মসূচি চলছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর কোনো কারণ ছাড়াই অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। এর মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম যোগদান করেন। তার এ যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এদিকে নিয়োগের প্রায় তিন সপ্তাহ পর সোমবার সকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রশাসনিক ভবন-২ এর তালা ভেঙে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এম