ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নে সরকারি ওষুধের এক বিশাল অপচয় ও অনিয়মের চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। যে ওষুধ সাধারণ রোগীদের হাতে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা এখন ভাসছে ডোবার নোংরা পানিতে। বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের একটি ডোবা থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের ওই ডোবায় বিপুল পরিমাণ ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও সিরাপ ভাসতে দেখে পথচারীরা হতবাক হয়ে যান। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এই ক্লিনিকে এসে ওষুধের খোঁজ করলে প্রায়ই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো। স্টকে ওষুধ নেই বলে জানানো হতো ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ থেকে। অথচ সেই ওষুধই এখন পচে নষ্ট হচ্ছে ডোবার পানিতে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংগৃহীত ওষুধগুলো সময়মতো রোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। ফলে স্টোরে থাকা অবস্থায়ই সেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। দায়িত্বরত ব্যক্তিরা নিজেদের গাফিলতি আড়াল করতেই অন্ধকারের সুযোগে বিপুল পরিমাণ এই ওষুধ ডোবায় ফেলে দিয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগের এই আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করলেই কি এই জাতীয় ক্ষতির পূরণ সম্ভব? যে অভাবী রোগীরা ওষুধের অভাবে দিনের পর দিন কষ্ট পেয়েছেন কিংবা সেবা না পেয়ে ফিরে গেছেন, তাদের এই কষ্টের দায়ভার কে গ্রহণ করবে? সরকারি সম্পদের এমন অপচয় এবং দায়িত্বে অবহেলার স্থায়ী সমাধান চান বেলগাছাবাসী।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :