মাদুরো অপসারণের নেপথ্যে কাবেলোকে নিয়ে গোপন সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্র

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
মাদুরো অপসারণের নেপথ্যে কাবেলোকে নিয়ে গোপন সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্র

ফাইল ছবি

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস থেকে তুলে আনার জন্য মার্কিন সামরিক অভিযান চালানোর কয়েক মাস আগেই দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আলোচনা শুরু হয়। মাদুরোকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পরও এই যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, মার্কিন কর্মকর্তারা ৬২ বছর বয়সী কাবেলোকে সতর্ক করেছিলেন, যেন তিনি তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন নিরাপত্তা বাহিনী বা সশস্ত্র সমর্থকদের দিয়ে বিরোধীদের ওপর কোনো হামলা না করেন। ৩ জানুয়ারির অভিযানের পরও ভেনেজুয়েলার গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী মূলত কাবেলোর নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসন নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিতে যে মাদক পাচারের অভিযোগ ব্যবহার করেছে, সেই একই অভিযোগে কাবেলোর বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। তবে অভিযানের সময় তাঁকে আটক বা তুলে নেওয়া হয়নি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, কাবেলো যদি তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনী ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চান, তা ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের ক্ষমতাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

কাবেলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ও তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি মামলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

দিওসদাদো কাবেলো দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং নিকোলা মাদুরোর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ও কাবেলো দীর্ঘদিন সরকারের কেন্দ্রে থাকলেও তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই।

সাবেক সামরিক কর্মকর্তা কাবেলোর গোয়েন্দা সংস্থা ও ‘কালেকতিভো’ নামে পরিচিত মোটরসাইকেল আরোহী সশস্ত্র বেসামরিক বাহিনীর ওপর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। অতীতে এসব বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র আপাতত তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাবেলোর ওপর কিছুটা নির্ভর করছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, কাবেলো যেকোনো সময় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে পারেন।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র কাবেলোকে ধরিয়ে দিলে এক কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করে। বর্তমানে সেই পুরস্কারের অঙ্ক বাড়িয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কাবেলো একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্র ‘কার্টেল অব দ্য সানস’-এর প্রধান নেতা। তবে কাবেলো সব সময়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর অনেক মার্কিন রাজনীতিবিদ প্রশ্ন তুলেছেন, মাদুরোকে তুলে নেওয়া হলেও কাবেলোকে কেন আটক করা হয়নি। রিপাবলিকান প্রতিনিধি মারিয়া এলভিরা সালাজার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দিওসদাদো কাবেলো সম্ভবত মাদুরো বা দেলসি রদ্রিগেজের চেয়েও বেশি ভয়ংকর।

মাদুরো অপসারণের পর প্রথম কয়েক দিনে কাবেলো যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেন। তবে সাম্প্রতিক দিনে ভেনেজুয়েলায় তল্লাশি ও ধরপাকড়ের ঘটনা আগের তুলনায় কমেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বর্তমান ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এই প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন কাবেলো। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, মুক্তির গতি অত্যন্ত ধীর এবং এখনো শত শত মানুষ অন্যায়ভাবে বন্দী রয়েছেন।

এসএইচ 
 

Link copied!