বিশ্ববাজারে হঠাৎ বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে সোনার দাম। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ মুনাফার কারণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় মূল্যবান এই ধাতুর দর এক ধাক্কায় ২ শতাংশের বেশি নেমে গেছে। একইসঙ্গে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ২ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৪০ দশমিক ০৭ ডলারে নেমে আসে। এটি চলতি মাসের শুরু থেকে সর্বনিম্ন অবস্থান। সপ্তাহজুড়ে সোনার বাজারে মোট দরপতন হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
এছাড়া জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচারও ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫৬ দশমিক ৪০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড প্রায় এক বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোয় সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। কারণ, সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার তুলনায় বিনিয়োগকারীরা এখন বেশি মুনাফার সুযোগ থাকা বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন।
একইসঙ্গে মার্কিন ডলারের দর বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির তথ্য বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার কারণে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে উৎপাদন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।
এর ফলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু পর্যায়ে রাখতে পারে—এমন আশঙ্কায় সোনার বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এদিকে শুধু সোনাই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় পতন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে। পাশাপাশি প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দরও নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে।
এম
আপনার মতামত লিখুন :