৬ দিনব্যাপী বিদায় অনুষ্ঠান

খামেনির দাফন প্রক্রিয়ায় তেহরানে লাখো মানুষের ঢল, ইতিহাসের দীর্ঘতম জানাজা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
খামেনির দাফন প্রক্রিয়ায় তেহরানে লাখো মানুষের ঢল, ইতিহাসের দীর্ঘতম জানাজা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তেহরানে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন পরিবেশ। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ চার মাস পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিদায় অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুরো দেশজুড়ে এখন শোক আর সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যুর চার মাস পর এবার চূড়ান্ত দাফন কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে তেহরান। শনিবার থেকে শুরু হয়ে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত—টানা ছয় দিন ধরে চলবে এই রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান, যা ইরানের ইতিহাসে দীর্ঘতম রাষ্ট্রীয় বিদায়ের রেকর্ড।

হত্যাকাণ্ডের স্থানে আকস্মিক কফিন, তেহরানে লাখো মানুষের ঢল

শুক্রবার থেকে মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগের দিন বৃহস্পতিবারই তেহরানের রাস্তায় এক আবেগঘন ও আকস্মিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই খামেনির মরদেহ বহনকারী কফিনটি মধ্য তেহরানে ঠিক সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি হামলার শিকার হয়েছিলেন।

ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এই আকস্মিক পদযাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তেহরানের রাজপথে ঢল নামে লাখো মানুষের। কালো পোশাক পরিহিত বাসিন্দারা প্রিয় নেতার ছবি ও ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে আসেন। অনেককে এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।

ইমাম হোসেনের লাল পতাকা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা

খামেনির অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা একটি ছবিতে দেখা যায়, ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো একটি ছোট কক্ষে তার কফিনটি রাখা হয়েছে। তবে সবচেয়ে নজর কেড়েছে কফিনের ওপর বিছিয়ে রাখা একটি বিশেষ লাল পতাকা।

ঐতিহাসিক প্রতীক

কফিনের ওপর থাকা লাল পতাকাটি মূলত শিয়া মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও কারবালার যুদ্ধে শহীদ মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের মাজারের। ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, এই পতাকাটি ‘প্রতিরোধ, ত্যাগ এবং সত্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠার’ প্রতীক হিসেবে খামেনির কফিনে জড়ানো হয়েছে।

এদিকে, সর্বোচ্চ নেতার কফিন রাজধানীতে পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো তেহরানকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীগুলো এখন 'সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায়' (হাই অ্যালার্ট) রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এই বিশাল জমায়েতকে লক্ষ্য করে যেকোনো মুহূর্তে দ্বিতীয় কোনো হামলা বা বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে পারে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কফিনটি তেহরানের একটি মসজিদে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে ইরানের শীর্ষ সারির সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা প্রয়াত এই নেতাকে তাদের শেষ শ্রদ্ধা জানান। শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা এখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এম

Link copied!