ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন যখন ইরানের বিরুদ্ধে দুই সপ্তাহ আগে শুরু করা সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে, তখনই এই উত্তেজনা সামনে আসে। শুক্রবার(১৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে—যার সভাপতিত্ব এ মাসে করছে যুক্তরাষ্ট্র—রাশিয়া ও চীন ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তদারকির জন্য গঠিত একটি কমিটি নিয়ে আলোচনা ঠেকাতে চেষ্টা করে। তবে সেই প্রস্তাব ১১–২ ভোটে নাকচ হয়ে যায়; দুই দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে তেহরানকে রক্ষা করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সব সদস্য দেশের উচিত ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাণিজ্য বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক সম্পদ জব্দ করা।
ওয়াল্টজের দাবি, ইরানের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রচলিত অস্ত্র কর্মসূচি এবং সন্ত্রাসবাদে সমর্থন থেকে সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলায় এসব পদক্ষেপ জরুরি। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ও চীন কার্যকর নিষেধাজ্ঞা কমিটির বিরোধিতা করছে কারণ তারা তাদের অংশীদার ইরানকে রক্ষা করতে চায় এবং নিষিদ্ধ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চালিয়ে যেতে চায়।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সম্প্রতি জানিয়েছে যে ইরানই একমাত্র দেশ যার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই, কিন্তু তারা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন ও মজুত করেছে এবং এ বিষয়ে সংস্থাটিকে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেয়নি।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। তার মতে, এসব করা হচ্ছে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানকে বৈধতা দিতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে।
চীনের প্রতিনিধি ফু কংও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক সংকটের জন্য মূলত ওয়াশিংটনই দায়ী। আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করেছে, যা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি সাংবাদিকদের বলেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সবসময়ই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে এবং ইরান নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রচেষ্টা মেনে নেবে না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জুন মাসে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না করলে ইরান দুই সপ্তাহের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারত। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, এই দাবি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ব্রিটেন ও ফ্রান্স নিরাপত্তা পরিষদে জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের যথাযথ জবাব দিতে তেহরানের ব্যর্থতার কারণেই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা যৌক্তিক।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :