সিঙাড়া বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ

  • সাজ্জাদ হোসাইন | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
সিঙাড়া বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ

ফাইল ছবি

গরম চায়ের কাপ আর মচমচে সিঙাড়া-বাঙালির দৈনন্দিন জীবনের এমন দৃশ্য যেন সময়ের সঙ্গে অটুট এক সম্পর্কের গল্প বলে। সকালের নাশতা হোক বা বিকেলের আড্ডা, বৃষ্টি বা রোদ—সিঙাড়ার আবেদন কখনোই ফিকে হয় না। মাত্র কয়েক টাকার এই খাবারটি আজ শুধু মুখরোচক নাস্তা নয়, বরং বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সিঙাড়ার ইতিহাস খুঁজতে গেলে যেতে হয় মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার প্রাচীন সভ্যতায়। ইতিহাসবিদদের মতে, এর আদি রূপ ছিল ‘সাম্বুসাক’ বা ‘সাম্বোসা’, যা পারস্য অঞ্চলে প্রচলিত ছিল। দশম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর বিভিন্ন আরবি ও পারস্য সাহিত্যে মাংস, বাদাম ও মসলায় ভরা এই ভাজা খাবারের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা মূলত রাজদরবার ও অভিজাতদের খাবার ছিল।

দিল্লি সালতানাতের সময় মধ্য এশিয়া থেকে আগত শাসক ও ব্যবসায়ীদের হাত ধরে এই খাবার ভারতীয় উপমহাদেশে আসে। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতার ভ্রমণবিবরণীতেও ‘সাম্বুসাক’-এর উল্লেখ রয়েছে, যা সে সময় রাজকীয় ভোজে পরিবেশিত হতো।

উপমহাদেশে এসে সিঙাড়ার রূপে আসে বড় পরিবর্তন। বাংলায় এটি নতুন পরিচয়ে ঢুকে পড়ে, যেখানে মাংসের বদলে আলু, মটরশুঁটি, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি হয় পুর। স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস ও সহজলভ্য উপকরণই এই পরিবর্তনের মূল কারণ।

ব্রিটিশ আমলে শহরের চায়ের দোকান ও রাস্তার স্টলগুলোতে সিঙাড়া দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সহজলভ্য ও সস্তা এই খাবার সাধারণ মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে যায়, বিশেষ করে ঢাকা ও কলকাতার নগর জীবনে।

বাংলা অঞ্চলে সিঙাড়ার রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। কোথাও ছোট আকারে আলু-মটরের পুর, কোথাও আবার কিমা, ডিম, কাজুবাদাম বা ফুলকপি দিয়ে তৈরি হয় ভিন্ন স্বাদের সিঙাড়া। আধুনিক সময়ে চিজ, চিকেন বা নুডলসের মতো ফিউশন সংস্করণও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

সময়ের পরিবর্তনে সিঙাড়া শুধু খাবার নয়, হয়ে উঠেছে আড্ডা, সম্পর্ক আর স্মৃতির অংশ। এক কাপ চায়ের সঙ্গে সিঙাড়ার জুটি আজও বাঙালির জীবনে একই রকম অটুট, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যার স্বাদ ও গল্প বয়ে চলেছে অবিরাম।

এসএইচ 

Link copied!