ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা: বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে যুগোপযোগী ব্যবস্থাপনা শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় আজকের শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করছে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত। জুবায়দুর এন্ড নার্গিস রহমান ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট দ্বারা প্রতিষ্ঠিত জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সাইন্স (জেডইউএমএস) শিক্ষার্থীদের কেবল ব্যবসায়িক নয়, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও মানবিক বিষয়েও দক্ষ করে গড়ে তুলছে, যা বেকারত্ব কমাতে এবং সমাজে কার্যকর মানবসম্পদ তৈরিতে সহায়ক। এটি কেবল শিক্ষা বানিজ্য নয়, এই দেশে একদল দক্ষ জনবল তৈরী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে যুগোপযোগী কর্মী ব্যবস্থাপনা শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় আজকের শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করছে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে যে বিষয়টি সবচেয়ে আলোচিত, তা হলো যুগোপযোগী, বাস্তবমুখী শিক্ষা। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতি, কর্পোরেট প্রতিযোগিতা এবং দক্ষ নেতৃত্বের ঘাটতি কর্মী ব্যবস্থাপনা শিক্ষার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সাইন্স (জেডইউএমএস) ধীরে হলেও নিশ্চিতভাবে একটি সম্ভাবনাময় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করছে।
অধ্যাপক ড. এম. জুবায়দুর রহমান-এর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির মূল লক্ষ্য হলো-তাত্ত্বিক জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার কার্যকর সমন্বয় করে দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক তৈরি করতে হলে শুধু পাঠ্যবই নয়; প্রয়োজন নৈতিকতা, যুগোপযোগী ধারণা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে কর্পোরেট খাত এবং শিল্পক্ষেত্রের চাহিদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেস স্টাডি, প্রজেক্ট ওয়ার্ক, গ্রুপ ডিসকাশন ও প্রেজেন্টেশন শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাভাবনা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায়। এছাড়াও ইন্টার্নশিপ ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবনের জন্য প্রস্তুত করে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিএ ইন ইংলিশ, ইকোনোমিক্স, বিবিএ, ইইই, সিএসই, আইটিএম, এলএলবি এবং এমবিএ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবস্থাপনা জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা সমন্বিতভাবে অর্জন করতে পারছে।
প্রযুক্তি শিক্ষাকে কাজে লাগাতে জেডএনআরএফ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে একটি ইনকিউবেশন সেন্টার, যেখানে শিক্ষার্থীদের ধারণাকে বাস্তবমুখী উদ্যোক্তা উদ্যোগে রূপান্তরের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এখানে শিক্ষার্থীরা কেবল প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে না, বরং তা ব্যবস্থাপনা দক্ষতার সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানিক ও ব্যবসায়িক সমাধান তৈরির সুযোগ পাচ্ছে।
ইনকিউবেশন সেন্টারের স্টার্টআপ প্রোগ্রামগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানবিকগুনাবলী ধারণ করে বাজার বিশ্লেষণ, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, দল পরিচালনা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জন করছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কেবল প্রযুক্তিবিদ নয়, পূর্ণাঙ্গ উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি হচ্ছে।
এখানে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাসরুমের বাইরে বাস্তব সমস্যার সমাধান শেখার সুযোগ পাচ্ছে। তারা মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র একাডেমিক জ্ঞান নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও পেশাগত প্রস্তুতিও বৃদ্ধি করছে। শিক্ষার্থীরা সেখানে বাস্তব সমস্যা সমাধান ও উদ্ভাবনী কাজ করার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো – তরুণ প্রজন্মেকে গবেষণা কার্যক্রমের অংশীদারিত্ব বাড়াতে জোরদার ভূমিকা পালন করা, যুগোপযোগী নতুন একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু করা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তিমূলক সেন্টারের মাধ্যমে আরও বেশি স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।
জেডএনআরএফ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি দক্ষতার সমন্বিত শিক্ষা নিশ্চিত করছে। এটি কেবল শিক্ষাকে বাস্তবমুখী করছে না, বরং দেশের উচ্চশিক্ষা ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে যে সঠিক দিকনির্দেশনা ও বাস্তবমুখী শিক্ষা থাকলে শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতের উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বে পরিণত হতে পারে এই দেশকে একটি শক্তিশালী দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা।
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :