নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড

মোতায়েন ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম
মোতায়েন ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

দ্বারপ্রান্তে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা, কেন্দ্র নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নজরদারিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের দাবি, অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবার বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ভবনে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কমিশন সন্তুষ্ট এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইসি পুরোপুরি প্রস্তুত।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, তফসিল ঘোষণার পর কিছু বিচ্ছিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। “এসব ঘটনা না ঘটলে পরিবেশ আরও ভালো হতো। তবে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আমরা এখন ভালো অবস্থানে আছি,”—বলেন তিনি।

তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। নির্ধারিত সময় শেষে কেন্দ্র চত্বরে উপস্থিত ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ৩০০ আসনের মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত থাকছে। ফলে ২৯৯ আসনে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন।

সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে সশরীরে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটের গণনা করা হবে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৪২ হাজার ৯৫৮টি। ইন-পার্সন ভোটিংয়ের কেন্দ্রগুলোর প্রায় অর্ধেককে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসি।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছয় কোটি ৪৮ লাখ এবং নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ।

নির্বাচনের নিরাপত্তায় সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। গত কয়েক সপ্তাহে সারা দেশে ৮৫০টির বেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ইসি সানাউল্লাহ।

তিনি বলেন, এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন (ইউএভি), বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ব্যবহৃত হচ্ছে। ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। এছাড়া প্রায় ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে বিদেশি সাংবাদিক রয়েছেন ১৫৬ জন।

ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, কমিশন কোনো পূর্বানুমান করতে চায় না, তবে মাঠপর্যায়ের ফিডব্যাক ইতিবাচক। “মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। শুধু ট্রেনের ভিড় দেখলেই বোঝা যায়—অনেকে ভোট দিতে বাড়ি ফিরছেন,”—বলেন তিনি।

সবশেষে তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে উৎসবমুখরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

এম

Link copied!