ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী দুই দিনে সারাদেশে ২১০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, শারীরিক হামলা, হুমকি ও ভাঙচুরের মতো ঘটনাও রয়েছে। এসবের মধ্যে ৫৩ শতাংশ শারীরিক হামলা, বাড়িঘর-অফিস-চেম্বারে হামলা ১৪ শতাংশ, হুমকি ১৩ শতাংশ, অগ্নিসংযোগ ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য সহিংসতা ১০ শতাংশ।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘নির্বাচন ও নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি: প্রতিবেদন ও পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্সের (ইডব্লিউএ) প্রধান মো. শরিফুল আলম। সংস্থার পক্ষ থেকে নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী দুই দিনসহ মোট তিন দিনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
শরিফুল আলম বলেন, “ভোট আপাত শান্তিপূর্ণ মনে হলেও কাঠামোগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কিছু আমলা, পুলিশ, আনসার সদস্য ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।”
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হলেও ভোট গণনা, ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব, রেজাল্ট শিটে ঘষামাজার প্রমাণ এবং ভোটার সংখ্যার সঙ্গে ফলাফলের অসঙ্গতি জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া নির্বাচন পরবর্তী দুই দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ইডাব্লিউএ প্রধান আরও বলেন, “শুধু ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেই নির্বাচন সুষ্ঠু বলা যায় না। ভোট গণনাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদলের বিষয়গুলো নিয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইডাব্লিউএ জেনারেল সেক্রেটারি খোন্দকার জাকারিয়া আহমদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট হেমায়েত হোসেন এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজ্জামান রোমান।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :