লাইন ভেঙে তেল নিতে যাওয়ায় পুলিশ সদস্যকে জরিমানা, জেলা পুলিশের প্রতিবাদ

  • চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
লাইন ভেঙে তেল নিতে যাওয়ায় পুলিশ সদস্যকে জরিমানা, জেলা পুলিশের প্রতিবাদ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে  লাইন ভেঙে তেল নিতে গেলে এক পুলিশ সদস্যকে জরিমানার আওতায় নেয়া হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিলে পরদিন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামাল আল নাসের স্বাক্ষরিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। 

এরআগে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার হক ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল মো. ছফিউল্লাহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিলেন। 

অভিযান সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সকাল ৭টা থেকে হক ফিলিং স্টেশনে ৬ হাজার লিটার পেট্রোল ও ২ হাজার লিটার অকটেন সরবরাহ শুরু হয়। জরুরি সেবার জন্য পৃথক লাইন থাকলেও তা উপেক্ষা করে আলমডাঙ্গা থানায় কর্মরত কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে উল্টো পথে প্রবেশ করে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘটনাস্থলেই তাকে হাতেনাতে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল মো. ছফিউল্লাহ বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান। নিয়ম ভঙ্গ করে তেল নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইন প্রয়োগকারী হয়েও বেআইনি কাজে জড়ানো সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে  বিবৃতি প্রদান করা হয়।

এতে বলা হয়, আলমডাঙ্গা থানায় কর্মরত ওই পুলিশ সদস্য গত ১৬ এপ্রিল ইউনিফর্ম ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় মোটরসাইকেলে জ্বালানি সংগ্রহকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জ্বালানি তেল সংক্রান্ত সভায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল প্রশাসন ও সাংবাদিকদের জন্য বিকল্প লাইনে তেল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টরা নির্ধারিত ব্যবস্থায় তেল সংগ্রহ করে আসছিলেন। তবে উক্ত পুলিশ সদস্য দায়িত্বগত প্রয়োজন দেখিয়ে বিকল্প লাইনে তেল নিতে গেলে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জরিমানা করেন।

জেলা পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে সর্বদা জনগণের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবায় নিয়োজিত। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় জ্বালানি তেলের সুষম বণ্টন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

তবে কর্তব্যরত অবস্থায় কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ তাদের মনোবলে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে জেলা পুলিশ।

এম

Link copied!