পে-স্কেল নিয়ে আজ সচিব কমিটির বৈঠক, আসতে পারে যেসব সিদ্ধান্ত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
পে-স্কেল নিয়ে আজ সচিব কমিটির বৈঠক, আসতে পারে যেসব সিদ্ধান্ত

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার করেছে সরকার। নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকরের রূপরেখা ও বাস্তবায়ন কৌশল চূড়ান্ত করতে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন এই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখা এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আজকের বৈঠকে যেসব সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ও কৌশল চূড়ান্ত হতে পারে, তার একটি বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্তকরণ
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেন। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। আজকের বৈঠকে এই ধাপগুলোর সময়সীমা এবং বাস্তবায়ন কৌশল চূড়ান্ত হতে পারে।

২. বিশেষ সুবিধা মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয়
নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকারি চাকরিজীবীদের দেওয়া বিশেষ সুবিধা আর পৃথকভাবে বহাল থাকবে না। বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। বৈঠকে এই সুবিধাগুলো বাতিল করে মূল বেতনের সঙ্গে একীভূত বা সমন্বয় করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

৩. কার্যকর বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ
বিশেষ সুবিধা মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করার কারণে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত চাকরিজীবীদের কার্যকর বেতন বৃদ্ধি প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন অস্থায়ী সুবিধা ও ভাতার পরিবর্তে মূল বেতন কাঠামোকে শক্তিশালী করা। আজকের বৈঠকে এই বেতন বৃদ্ধির হার ও এর আর্থিক সংশ্লেষ পর্যালোচনা করা হবে।

৪. পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধা বৃদ্ধি
মূল বেতন কাঠামো শক্তিশালী করার ফলে চাকরিজীবীদের পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসরকালীন সুবিধার পরিমাণও স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। এ বিষয়ে সচিব কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ চূড়ান্ত করবে।

৫. বিভিন্ন কমিশনের প্রস্তাবনা পর্যালোচনা
বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ ও সচিব কমিটির পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাবনা এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

৬. ৪৪ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ সদ্ব্যবহার
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই অতিরিক্ত অর্থের একটি বড় অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নবম জাতীয় পে-স্কেলের আংশিক বা প্রথম ধাপের বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে। আজকের বৈঠকে এই অর্থ ছাড় ও বণ্টনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে।

১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে থাকার পর মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই বাস্তবতায় আজকের এই সচিব কমিটির বৈঠকটি নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এসএইচ 

Link copied!