ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ ১১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে নতুন পে স্কেল। তবে নতুন এই বেতন কাঠামো কত ধাপে বাস্তবায়িত হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন ঝুলে আছে মন্ত্রিসভার ওপর। গতকাল বুধবার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারির জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও, বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া যা-ই হোক না কেন, নতুন বেতন কাঠামো গত ১ জুলাই থেকেই কার্যকর ধরা হবে।
সচিব কমিটি আগামী দুই-তিন দিন কারিগরি দিকগুলো বিশ্লেষণ করে চলতি মাসের শেষে বা আগস্টের শুরুতে মন্ত্রিসভায় তাদের সুপারিশ জমা দেবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর জারি হবে কাঙ্ক্ষিত গেজেট। গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন, যার মূল লক্ষ্য লাগামহীন মূল্যস্ফীতির বাজারে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন সরকারের আর্থিক সক্ষমতা। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে যেখানে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, সেখানে নতুন কাঠামোয় বাড়তি প্রয়োজন হবে আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল অর্থের জোগান নিশ্চিত করতেই বিষয়টি মন্ত্রিসভার টেবিলে পাঠানো হচ্ছে। অবশ্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার বড় অংশই যাবে এই খাতে।
সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর মতে, ২০১৫ সালের মতো এবারও দুই ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন করাই হবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ স্কেল ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার পাশাপাশি বৈশাখী ও যাতায়াত ভাতায় ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন সাধারণ কর্মচারী, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এই বিশাল প্রাপ্তির খতিয়ান মন্ত্রিসভার হাত ধরে কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে লাখো পরিবার।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :