ফাইল ছবি
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাওয়ার প্রক্রিয়া যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই দেশের বিশাল এক শিক্ষক সমাজের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। সরকারি কর্মচারীরা চলতি অক্টোবর মাসের বেতন নতুন পে স্কেলের ভিত্তিতে হাতে পাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির খবর এখনো দূরে।
মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘসূত্রতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও বিচার বিভাগীয় কর্মীদের নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়িত হতে নভেম্বর বা ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত গড়ায় কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের পে ফিক্সেশনের কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি মাসের বেতন এবং গত জুলাই থেকে শুরু হওয়া তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে পরিশোধ করার কথা রয়েছে। কিন্তু এই ডিজিটাল অগ্রগতির ছোঁয়া এখনো লাগেনি দেশের ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনের ক্ষেত্রে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতা কার্যকরে এই বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক পদ্ধতির দুর্বলতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতন-ভাতার হিসাব ও বিল প্রক্রিয়াকরণ এখনো বহুলাংশে এনালগ বা হাতে-কলমে সম্পন্ন করতে হয়।
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট অবকাঠামো ও কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজের অনুপস্থিতির কারণে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর পে স্কেল নির্ধারণের ফাইলটি দফতরে দফতরে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এমন বঞ্চনা ও বিলম্বিত প্রক্রিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে শিক্ষক সমাজ। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক স্পষ্টভাবে দাবি জানিয়েছেন যে, দেশের প্রায় ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নবম জাতীয় পে স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের জন্যও পৃথক ও দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা জরুরি।
সরকারি কর্মচারীরা যখন নতুন বেতনের সুফল ভোগ করার দোরগোড়ায়, তখন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এই অপেক্ষার প্রহর কবে ফুরোবে-তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। শিক্ষক সমাজের এই না পাওয়ার বেদনা এবং দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজাল শেষ পর্যন্ত কীভাবে কাটবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে দেশের শিক্ষকসমাজ।
এসএইচ