ছবি: সংগৃহীত
শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম-হাসপাতাল কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে সকাল হতেই পরিপাটি পোশাকের তরুণদের দেখা মেলে। তারা ওষুধশিল্পের বিক্রয় প্রতিনিধি। চিকিৎসকদের কাছে ওষুধের তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং বাজারে ওষুধের বিপণন পরিচালনায় তাদের ভূমিকা অপরিসীম। তবে তাদের এই চাকচিক্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রার চরম চাপ। এতে তাদের চাকরি হারানোর ভয় ও আর্থিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অনেক কর্মীকে হাসপাতালে অবস্থান করতে হয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি হারানোর ভয় থাকে। ফলে ব্যক্তিগত বিশ্রাম বা পরিবারকে সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক তরুণ ভালো ক্যারিয়ারের আশায় এ পেশায় এসেছিলেন। কিন্তু অনিয়মিত কর্মঘণ্টা ও লক্ষ্যমাত্রার চাপ তাদের হতাশ করছে।
কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ায় সেই চাপ গিয়ে পড়ছে মাঠপর্যায়ে কর্মীদের ওপর। নির্ধারিত বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। ক্ষেত্রবিশেষে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কম দামে ওষুধ বিক্রি করতে হয়। পরে সেই ঘাটতি মেটাতে গিয়ে কর্মীরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। পাশাপাশি রিপোর্ট জমা দিতে দেরি হলে বেতন কেটে রাখার মতো অভিযোগও রয়েছে।
বিপণন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রোগীর ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি ঝুঁকিতে পড়ে। হাসপাতালগুলোর নিজস্ব প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম থাকলেও অনেক সময় তা অমান্য করার চাপ দেওয়া হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে দায়ভার পড়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর।
দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, বিশ্রামের অভাব এবং মানসিক চাপ কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। পেশাগত মর্যাদা ও চাকরির নিরাপত্তা না থাকলে এ খাতে নতুন স্নাতকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মী সংকটে পড়তে পারে ওষুধ কোম্পানিগুলো।
করোনা মহামারির মতো সংকটকালেও এ খাতের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়েছেন। তাই তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা জরুরি। অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা এবং কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা দেওয়া প্রয়োজন। ওষুধশিল্পের প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে সরকারের পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
এসএইচ