যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না দেশের ৬০ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না দেশের ৬০ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী

ফাইল ছবি

দেশের স্নাতক বা তার চেয়ে বেশি ডিগ্রিধারীদের ৬০ শতাংশের বেশি উপযুক্ত চাকরি না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের 'ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট' শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের রিজিওনাল প্র্যাকটিস ডিরেক্টর জেম মেতে, এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সিসকা লিজেলোটে ওনসর্গ এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল মার্টিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির সিনিয়র এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেহরিন আহমেদ মাহবুব।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মক্ষম মানুষের ৮৪ শতাংশই (প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ) অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। এসব কাজে তাঁদের আয় আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের তুলনায় ৪৫ থেকে ৮৪ শতাংশ পর্যন্ত কম। অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরতদের নিয়োগপত্র না থাকায় আইনি সুরক্ষা নেই বললেই চলে, পাশাপাশি কোনো নির্ধারিত মজুরি কাঠামোও নেই। ফলে নিয়োগকর্তা চাইলে যেকোনো সময় তাঁদের কাজ থেকে বাদ দিতে পারেন। এ ছাড়া দেশের মাঝারি ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও মোট কর্মসংস্থানের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক, যার কারণে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বড় অংশই কাঙ্ক্ষিত বা সুরক্ষিত কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত ২০৪৫ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং এরপর থেকে বাড়তে থাকবে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য হাতে বেশি সময় না থাকলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এখনো দুর্বল। ফলে ধনী হওয়ার আগেই বাংলাদেশ বয়স্ক সমাজে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, অর্থনীতিতে পর্যাপ্ত আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ছোট উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের অনানুষ্ঠানিক খাত জরিপ বিশ্লেষণ করে বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে অনানুষ্ঠানিক খাতের ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ উদ্যোক্তা বিকল্প বা নিয়মিত চাকরি না পেয়ে এ ধরনের কাজ শুরু করার কথা বলেছেন।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি বেশ ধীর। দেশে এসব প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে ৮২টি উদীয়মান অর্থনীতির দেশের গড় হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। শ্রম-উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও ভারত বিশ্বের অধিকাংশ দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

এসব দেশের পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রতিষ্ঠানের তুলনায় শ্রমিকপ্রতি উৎপাদন বাড়াতে পারছে না। এ ছাড়া পর্যটন ও খাদ্যসংশ্লিষ্ট খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি অত্যন্ত ধীর এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগের বদলে কর্মী কমাচ্ছে।

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বড় দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ অঞ্চলের কর্মক্ষম জনসংখ্যার মাত্র ১৭ শতাংশ পেনশন স্কিমে অবদান রাখেন এবং বয়স্কদের মাত্র ১০ শতাংশ পেনশন সুবিধা পান, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি দীর্ঘায়ু লাভ করা প্রবীণদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং দীর্ঘমেয়াদী সেবাগুলোও অত্যন্ত অপর্যাপ্ত বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এসএইচ 

Link copied!