ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সরকারি ফলাফল গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে গণভোটের ফলাফলের গেজেটও প্রকাশ করা হয়। জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধানসম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিপুল ব্যবধানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়েছে। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পথ খুললো।
গেজেট অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮২ হাজার ৬৬০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। এতে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি।
এছাড়া গণভোটে বাতিলকৃত ভোট ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। সব মিলিয়ে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি বলে জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ১৬ ধারার (৩) উপ-ধারা অনুযায়ী এই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়েছে। এর মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার–সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে জনগণের সমর্থন মিলেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ভোটাররা উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে তাদের রায় প্রদান করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই রেকর্ডসংখ্যক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল এই নির্বাচনি লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন; যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ২৭৪ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮০ জন। এবারের নির্বাচনে মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এদিকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়। বৈঠকে শপথের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তটি সফলভাবে করতে প্রটোকল, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সেবার বিষয় অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে সব পরিকল্পনা।
এম
আপনার মতামত লিখুন :