কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, আলোচনায় যাদের নাম

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, আলোচনায় যাদের নাম

ফাইল ছবি

ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ডিসেম্বরে জানিয়েছিলেন তিনি আর রাষ্ট্রপতি পদে থাতকে আগ্রহী নন। তিনি পদত্যাগ করবেন। এরপরই গুঞ্জন উঠে বিএনপি সরকার গঠন করলে কে হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও শেষ হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে এখন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এবং মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে।

এখন শহর থেকে গ্রাম, হাটবাজার থেকে শুরু করে বড় বড় মার্কেটম, সব জায়গায় একই আলোচনা কে হবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। আর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, দল সরকার গঠনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে বিএনপি সরকার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এক্ষেত্রে দলটির কয়েকজন সিনিয়র নেতার নাম আলোচনায়। এদের মধ্যে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই। আমি চলে যেতে আগ্রহী।’মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ‘নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ আছে মো. সাহাবুদ্দিনের। যদিও সেই সময় পর্যন্ত তিনি পদে থাকছেন না, যা স্পষ্ট হয়েছে রয়টার্সের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকারে।

বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। ২০২৩ সালে বগুড়ায় বিএনপির একটি বিভাগীয় সমাবেশে দলটির নেতা জি এম সিরাজ বলেছিলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী। আর রাষ্ট্রপতি হবেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

৭৯ বছর বয়সী খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা–১ আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে চারবার সংসদ সদস্য হন তিনি (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন এবং ২০০১)। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী হন। ২০০১ সালে হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন আদায়ে সংগঠকের ভূমিকায় ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামটি আলোচনায় থাকলেও তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শ রয়েছে দলের ভেতর। খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জমায়েতে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। এবার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।

এদিকে দলের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নেতা তার দায়িত্ব পালনে অবিচল ছিলেন। এবার হয়তো এই নেতাকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্মান রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে।

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামীকাল মন্ত্রীদের নাম জানা যাবে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে, কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি।

পিএস

Link copied!