ছাদ থেকে আসবে ১৪% বিদ্যু

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ছাদ থেকে আসবে ১৪% বিদ্যু

ফাইল ছবি

ঢাকা: তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর ছাদে প্রায় ২ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতকে বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত ‘পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে সমীক্ষা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। 

গবেষণায় বলা হয়, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের ৮৭৮টি পোশাক কারখানার ওপর পরিচালিত সমীক্ষায় এসব কারখানার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার মাত্র তিন শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসছে। তবে রুফটপ সোলারের মাধ্যমে পোশাক খাতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করা সম্ভব।

তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সম্ভাবনা প্রায় ২ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াট। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন হবে প্রায় ১২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩০০ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার ২ হাজার ৩০৩টি নন-অ্যাডাপ্টার কারখানায় সোলার প্যানেল স্থাপনে প্রায় ১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ৩ দশমিক ০৪ টাকা। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কেনার তুলনায় এ খরচ অর্ধেকেরও কম। তবে অর্থায়নের শর্তকে বড় বাধা হিসাবে দেখছে সিপিডি। গবেষণায় বলা হয়, সাড়ে ১০ শতাংশের বেশি সুদে বাণিজ্যিক অর্থায়ন হলে শিল্পকারখানায় রুফটপ সোলার প্রকল্প ব্যাংকের কাছে বিনিয়োগযোগ্য থাকে না। এ কারণে সবুজ অর্থায়ন ও রেয়াতি ঋণের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘প্রত্যেকেই ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের (সংকট নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ) ভেতরে রয়েছে। এই ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট আরও কম হতে পারত, যদি অনেক আগে থেকেই শিল্প কারখানাগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে পারতাম।’

তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে পোশাক খাত রুফটপ সোলারের দিকে যাচ্ছে। এটা খুবই ইতিবাচক প্রচেষ্টা। একদিকে এটি জ্বালানির ওপর চাপ কমাচ্ছে, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর যে প্রতিশ্রুতি আছে, সেটিও পূরণ করছে।’

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পোশাক খাতে সবমিলিয়ে প্রায় ৯ দশমিক ৭ মিলিয়ন বর্গমিটার জায়গা রয়েছে, যেখানে রুফটপ সোলার স্থাপন করা সম্ভব। এসব ছাদ থেকে প্রায় ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, রুফটপ সোলারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ কিংবা অনেক রিসোর্সের প্রয়োজন নেই। মাত্র ১৮৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা) হলেই চলবে।’

তিনি বলেন, ‘সব কারখানা এখনই প্রস্তুত নয়। প্রায় ৫০০ কারখানা এখনই বিনিয়োগ করতে পারে। আরও ১ হাজার ৩০০ কারখানা রয়েছে, যারা প্রয়োজনীয় সমর্থন পেলে রুফটপ সোলারে যেতে পারে। ৪০০টির বেশি কারখানার ক্ষেত্রে আরও বেশি ইন্টারভেনশন (কার্যকর পদক্ষেপ) প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে হা-মীম গ্রুপের পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি বিভাগের প্রধান তনুল চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা ২৯ দশমিক ২ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার ইতোমধ্যে করে ফেলেছি। এতে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ এবং পুরো জ্বালানি চাহিদার মাত্র ছয় শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। এটাই বাস্তবতা।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কান্ট্রি লিয়াজোঁ নুসরাত জাহান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও অপারেশন) স্বপন বণিক, বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাহিদুল আলম, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক মিনহাজুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এসআই

Link copied!