শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে ডাকাতি, ভয়ংকর তথ্য দিল গোয়েন্দারা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে ডাকাতি, ভয়ংকর তথ্য দিল গোয়েন্দারা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাজধানীর আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব অপরাধে সরাসরি অংশ নিচ্ছে ভাড়ায় নিয়োজিত পেশাদার ডাকাতরা। আর তাদের পেছনে থেকে অপরাধের পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ করছে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। ফলে মাঠপর্যায়ের অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রবাসী যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করছে এসব চক্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে গাড়িতে তুলে নেওয়া, হাত-পা ও চোখ বেঁধে সর্বস্ব লুট এবং পরে নির্জন স্থানে ফেলে যাওয়ার মতো কৌশল অনুসরণ করছে তারা। অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত রাজধানী ছেড়ে অন্য এলাকায় আত্মগোপন করছে চক্রের সদস্যরা।

সম্প্রতি একাধিক ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এমন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব ঘটনায় জড়িত অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অপরাধীদের পাশাপাশি বিদেশ থেকে এসেও কেউ কেউ ডাকাতিতে অংশ নিচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিবি পরিচয়ে গাড়িতে তুলে লুট ৩৮ লাখ টাকার মালামাল

এ ধরনের অপরাধের শিকার হয়েছেন চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. খোরশেদ। গত ৬ জুলাই দুবাইপ্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো ১৭ ভরি স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।

পথে শাহবাগ এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি তাকে একটি কালো গাড়িতে তুলে নেয়। পরে চোখ ও হাত-পা বেঁধে তার কাছ থেকে প্রায় ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। এরপর তাকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, বিমানবন্দর ও আশপাশের সড়কে চলাচলকারী প্রবাসফেরত যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের গতিবিধি লক্ষ্য করে এসব চক্র। সুযোগ বুঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাদের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় অপরাধীরা।

গ্রেপ্তার হলেও ফিরছে অপরাধে

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এসব চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। জামিনে আইনি সহায়তা পেতে কিছু আইনজীবীর সঙ্গে অপরাধীদের চুক্তি থাকার অভিযোগও রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগাম পারিশ্রমিক ছাড়াই আইনি সহায়তা দেওয়া হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বক্তব্য ছাড়া বিষয়গুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।

গোয়েন্দাদের মতে, ভাড়ায় নিয়োজিত ডাকাতদের গ্রেপ্তার করেই এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং চক্রের নেপথ্যের ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

অপরাধ দমনে তৎপরতা অব্যাহত

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানিয়েছেন, বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেগ পেতে হয়। গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকায় ডাকাতির ঘটনা অনেকাংশে কমেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমানবন্দর থেকে বাসা বা গন্তব্যে ফেরার পথে যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার করা, ছদ্মবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ও মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা গেলে এ ধরনের সংঘবদ্ধ ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

এম

Link copied!