ফাইল ছবি
ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) আমদানি করা চাল প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে ‘খাবার উপযোগী’ হিসেবে খালাস করা হলেও পরবর্তীতে পাওয়া গেছে বিষাক্ত ও ক্ষতিকর ক্যান্সারের উপাদান ‘আফলাটক্সিন’।
চট্টগ্রামের হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের (সিএসডি) ১৩৫ টন চালে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম মারাত্মক এই ছত্রাকজনিত বিষের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর চালগুলো অধিকতর পরীক্ষার জন্য পুনরায় নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ নামের জাহাজে করে ভারত থেকে এই চাল আমদানি করা হয়। গত ২১ জুলাই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছালে পরদিন খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দল নমুনা সংগ্রহ করে। সেই নমুনা পরীক্ষায় চাল খাবার উপযোগী প্রতিবেদন পাওয়ার পর খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং চালের বিভিন্ন চালান ঢাকার তেজগাঁও, চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর গুদামে পাঠানো হয়।
তবে চাল গুদামে পৌঁছানোর পর এর নিম্নমান দেখে আপত্তি তোলেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। চালের মান সন্দেহজনক ও খাবারের অনুপযোগী মনে হওয়ায় পরিবহন ঠিকাদারেরাও খালাস স্থগিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে গাজীপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে। সেই ল্যাব পরীক্ষায় হালিশহর সিএসডির চালের স্তূপে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আফলাটক্সিন এক ধরনের অত্যন্ত মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান, যা মূলত আর্দ্র পরিবেশে ধান বা চালে জন্ম নেওয়া অ্যাসপারজিলাস গোত্রের ছত্রাক থেকে তৈরি হয়। এই আফলাটক্সিনযুক্ত খাবার দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে মানুষের লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই ঘটনার পর চট্টগ্রামের হালিশহর সিএসডির ওই চালের বিতরণ স্থগিত রেখে নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এসএইচ