ফাইল ছবি
চুয়াডাঙ্গায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হিসাবরক্ষণ অফিসের কাজ ও ডাটা এন্ট্রির খরচের কথা বলে শিক্ষকপ্রতি একশ থেকে তিনশ টাকা করে চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষক। এ ঘটনায় জেলার শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা মুঠোফোনে যোগাযোগ করে শিক্ষকদের টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। এজন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ডেকে এনে তাদের মাধ্যমে এই টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত অর্থ নির্দিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে কোনো ধরনের ফি বা অর্থ প্রদানের সরকারি নিয়ম নেই। অনেক শিক্ষক নিজেদের উদ্যোগে এই কাজ সম্পন্ন করেছেন। এর পরেও হিসাবরক্ষণ অফিস ও ডাটা এন্ট্রির খরচের কথা বলে অর্থ দাবি করায় তাদের মনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পে-ফিক্সেশনের নামে এই অর্থ সংগ্রহের পেছনে কোনো সরকারি নির্দেশনা আছে কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সংগৃহীত অর্থ কোথায় খরচ হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী মহল জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা তাসলিমা নাসরিন বলেন, পে-ফিক্সেশনের কাজ শিক্ষকদের নিজেদেরই করার কথা। কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে বসে নিজেরাই এ কাজ করছেন। কাজ শেষে প্রয়োজনীয় ফাইল তৈরি করে বিদ্যালয়ের মাধ্যমে দপ্তরে জমা দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। পে-ফিক্সেশনের জন্য টাকা নেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও আমার জানা নেই। আমার দপ্তর থেকে এ ধরনের কাজের জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয় না। তাই এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারছি না।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এসএইচ