ফাইল ছবি
জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে-ইসলামী আন্দোলনের জন্য বরাদ্দ থাকা ৪৭টি আসনে এখন কী করবে জামায়াত।
জোট সূত্রে জানা গেছে, এই ৪৭টি আসন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ ইসলামী আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে মাত্র। ইসলামী আন্দোলনের জন্য ফাঁকা রাখা ৪৭টি আসন কি করা হবে সেটা নিয়ে জোটসঙ্গীদের নিয়ে বসবে জামায়াত। প্রাথমিক তালিকায় ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও বাকি ৪৭টি আসন নিয়ে আলোচনা চলমান থাকার কথাই জানানো হয়েছিল।
ইসলামী আন্দোলন শুক্রবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা জোটে থাকবে না এবং ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচন করবে। এর ফলে জোটের ভেতরে ওই ৪৭ আসন কার্যত ফাঁকা হয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক ও জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, জামায়াতের সামনে এখন মূলত তিনটি পথ খোলা আছে।
প্রথমত, এই আসনগুলোতে জামায়াত নিজেই প্রার্থী দিতে পারে। ইতিমধ্যে জামায়াত ১৭৯টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলটির ভেতরে আলোচনা চলছে, শক্তিশালী সাংগঠনিক উপস্থিতি আছে-এমন এলাকাগুলোতে জামায়াতের প্রার্থী বাড়ানো হবে কি না।
দ্বিতীয়ত, জোটের অন্য শরিক দলগুলোর সঙ্গে নতুন করে আসন সমঝোতা করা হতে পারে। এনসিপি, খেলাফত মজলিস, এলডিপি বা এবি পার্টির মতো দলগুলো অতিরিক্ত কিছু আসন পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে জোটের ভারসাম্য ও মাঠপর্যায়ের শক্তি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তৃতীয়ত, কিছু আসনে কৌশলগত সমর্থনের পথ খোলা রাখা হতে পারে। অর্থাৎ জোটের বাইরে থাকা কিন্তু আদর্শিকভাবে কাছাকাছি কোনো প্রার্থীকে নীরব সমর্থন দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
এ বিষয়ে জামায়াত বা জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা বলেননি।
জোটের এক নেতা বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্ত আমরা সম্মান করি। তবে নির্বাচনি বাস্তবতা অনুযায়ী বাকি আসনগুলোতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, ৪৭টি আসনের বিষয়ে শিগগিরই জোটের বৈঠক হবে এবং সেখানে চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলনের এককভাবে ২৬৮ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা জোটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যেসব আসনে ইসলামী আন্দোলনের শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি আছে, সেখানে জামায়াত ও জোটের প্রার্থীদের ভোট বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে জামায়াত যদি দ্রুত ৪৭ আসন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তাহলে এক বাক্সে ভোট দেওয়ার যে কৌশল জোট ঘোষণা করেছে, সেটি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সরে যাওয়ার পর ৪৭টি আসন এখন জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের জন্য সবচেয়ে বড় অঙ্কের রাজনৈতিক ধাঁধা। এই ধাঁধার সমাধানই নির্ধারণ করে দেবে জোটের নির্বাচনি কৌশলের পরবর্তী অধ্যায়।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :