ফাইল ছবি
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হচ্ছে না এবং নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় করে প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি।
রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান চিফ হুইপ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
চিফ হুইপ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ও অন্যান্য কার্যক্রমের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে নির্বাচন কমিশনের কাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হবে না এবং প্রকৃত জনসমর্থন রয়েছে এমন প্রার্থীরাই যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হবে। মোট পাঁচ ধাপে ৪ হাজার ৩০০-এর মতো ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ২৭ মে ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, একই পদে দলের একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে দলটি। নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দূর করতে তৃণমূল পর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি সাম্প্রতিক বৈঠকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পূজাসময়ে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা উসকানিমূলক ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নিশ্ছিদ্র নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে চিফ হুইপ বলেন, দলের পরিচয় দিয়ে কেউ অপকর্ম করলে ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধান এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এসএইচ