জামায়াতের ইশতেহারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন ঢাবি শিক্ষক মোনামী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
জামায়াতের ইশতেহারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন ঢাবি শিক্ষক মোনামী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেহরিন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ইশতেহারকে সময়োপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং তারুণ্যবান্ধব বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এবারের ইশতেহারে দলটি আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে জামায়াতের ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

মোনামী বলেন, জামায়াত, শিবির ও এনসিপির সঙ্গে যুক্তদের বড় একটি অংশ উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী। তাঁদের মধ্যে কেউ পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত, কেউ প্রকৌশলী কিংবা চিকিৎসক। এ ধরনের জনশক্তি ও সক্ষমতা থাকলে প্রযুক্তিভিত্তিক ও উদ্ভাবনী ইশতেহার দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পুরো ইশতেহারটি তার কাছে আধুনিক চিন্তাধারার প্রতিফলন মনে হয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রমে বিভিন্ন অ্যাপ ও প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল সমাধানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিয়ে জামায়াতের অবস্থান প্রসঙ্গে ঢাবির এই শিক্ষিকা বলেন, পূর্ব অভিজ্ঞতা ও সামাজিক আলোচনার কারণে তিনি শুরুতে কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন। বিশেষ করে একজন কর্মমুখী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারী হিসেবে নারীনীতির বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন।

তবে ইশতেহার পর্যালোচনা করে তিনি বলেন, নারী বিষয়ক নীতিগুলো সুপরিকল্পিত ও ইতিবাচক। এমনকি হিজড়া কমিউনিটির জন্য আলাদা নীতির উল্লেখ তাকে বিস্মিত করেছে। তাঁর মতে, এটি স্পষ্ট করে যে দলটি এবার ইনক্লুসিভ পলিসিতে বিশ্বাস রেখে এগোতে চাচ্ছে।

মোনামী বলেন, আগে জামায়াতকে তুলনামূলকভাবে বেশি রক্ষণশীল মনে করলেও এবারের ইশতেহারে সে অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নারীদের ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে যে ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ইশতেহার প্রকাশের পর তার মাথায় কিছু নতুন আইডিয়াও এসেছে। জামায়াত আমিরের পক্ষ থেকে পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ রাখায় তিনি নিজের কিছু প্রস্তাব দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ না নিলেও এই আয়োজনে এসে তাঁর মনে হয়েছে—যদি ইশতেহারের কথাগুলো আন্তরিকভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে তা দেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

এম

Link copied!