কারাগারে মমতাজের গানের আসর, অন্দরমহলের খবর ফাঁস করলেন আইভী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
কারাগারে মমতাজের গানের আসর, অন্দরমহলের খবর ফাঁস করলেন আইভী

ফাইল ছবি

রাজনীতির চেনা মাঠ ছেড়ে যখন নেতা-নেত্রীরা কারান্তরালে যান, তখন তাদের দিনগুলো কেমন কাটে? নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ফেসবুকে এমন এক অজানা ও রুদ্ধশ্বাস অধ্যায় প্রকাশ করেছেন, যা পড়ার পর পাঠক থমকে যেতে বাধ্য। যেখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে সুর, শোক আর এক বোনের বুকফাটা আর্তনাদ।

ফেসবুক পোস্টে সেলিনা হায়াৎ আইভী জানিয়েছেন, কারাগারে থাকার সময় তার একাকীত্ব দূর করতে এবং মনকে প্রফুল্ল রাখতে নিয়মিত গান শোনাতেন বন্দি থাকা আরেক সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগম। জেলের বন্দি জীবনে অবসর পেলেই মমতাজের উপস্থিতিতে সেখানে বসত ছোট ছোট গানের আসর। সেই আসরে মমতাজের দরাজ কণ্ঠের গান আইভীকে জোগাত বেঁচে থাকার অন্যরকম এক মানসিক শক্তি।

কিন্তু সেই গানের আসরেই লুকিয়ে ছিল এক তুমুল কান্নার গল্প। আইভী লিখেছেন, মমতাজের গাওয়া একটি বিশেষ গান-‘আমার ভাইয়েরে কইও নাইওর আনতো গিয়া’-শোনার সময় তিনি কোনোভাবেই নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারতেন না। এর পেছনে ছিল এক গভীর পারিবারিক ট্র্যাজেডি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে আইভীর ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ মারা যান। ভাইয়ের মৃত্যুর ঠিক এক মাস পরেই আকস্মিকভাবে গ্রেপ্তার হন আইভী। কারাজীবনে ভাইয়ের সেই টাটকা স্মৃতি ও শোক তাকে বারবার ভেঙে চুরমার করে দিত।

বেদনা সহ্য করতে না পেরে আইভী একপর্যায়ে মমতাজকে হাতজোড় করে অনুরোধ করেন, গানটি আপাতত আর না গাইতে। আইভী মমতাজকে বলেছিলেন, গানটি যেন তার মুক্তির দিন গাওয়া হয়, কারণ সেদিন পরিবারের সবার সঙ্গে বসে এই দুঃখ ও কান্না ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। মমতাজও সহবন্দীর সেই আকুল আকুতিকে সম্মান জানিয়েছিলেন। কথামতো আইভীর মুক্তির দিনই কারাগারের ভেতর বিদায়ী গানের আসরে সেই গানটি পরিবেশন করেন মমতাজ, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।

কারাগারের রুদ্ধশ্বাস দিনগুলোতে আইভী কেবল গান শুনেই চোখ মোছেননি, সেখানে তিনি নিজের ভেতরের কবিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। বন্দি অবস্থায় আইভী একটি কবিতা লেখেন, যেটিতে মমতাজ নিজে সুর বেঁধে গান তৈরি করেছেন। মুক্তির পর এই গানটি জনসমক্ষে পরিবেশন করার একটি বিশেষ পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। আইভী আরও জানান, বন্দিজীবনে তিনি নিয়মিত ধর্মীয় নানা অনুশীলন ও দোয়া-কালাম পড়েছেন। বিশেষ করে গাদিরে খুম দিবসের আগেই যেন মুক্তি পান, সেই প্রার্থনা করেছিলেন মনেপ্রাণে। শেষ পর্যন্ত তার সেই প্রত্যাশাও পূরণ হয়েছে।

গত ৯ মে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কারাভোগ শেষে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান সেলিনা হায়াৎ আইভী। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তার বাসায় আত্মীয়স্বজন ও নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে, চলছে এক ধরনের আবেগঘন পরিবেশ। তবে কারাগারের ভেতরে তৈরি হওয়া দুই ভিন্ন জগতের দুই নারীর এই মানবিক সম্পর্ক, সুরের মেলবন্ধন এবং এক সাবেক মেয়রের কান্নার গল্প এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়েও এক অন্যরকম কৌতূহল ও হাহাকার তৈরি করেছে।

এসএইচ 
 

Link copied!