দেশে আগমন-প্রস্থান ভিসা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
দেশে আগমন-প্রস্থান ভিসা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটকে সামনে রেখে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে আগমন, অবস্থান ও প্রস্থানের ওপর সর্বোচ্চ নজরদারি আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, নথিপত্রের কঠোর যাচাই-বাছাই এবং ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নীতিনির্ধারকদের ভাষায়, নির্বাচন ও গণভোটকেন্দ্রিক এই সময়ে বিদেশিদের ভ্রমণ একটি ‘কন্ট্রোলড ভিজিট’ ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসা অন অ্যারাইভালসহ সব ধরনের ভিসা দেওয়ার আগে আবেদনকারীর কাগজপত্র, বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য, স্পন্সরকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, থাকার ঠিকানা এবং ফিরতি টিকিট যাচাই করতে হবে। এসব বিষয়ে সন্তুষ্ট না হলে ভিসা দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তা ঝুঁকি, রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য-এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০০৬ সালের বিদ্যমান ভিসা নীতিমালা এবং পরবর্তী প্রজ্ঞাপন কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনাকে অনেকেই পুরনো নীতিতে কঠোর প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে প্রশাসনিক বিবেচনাবোধের সুযোগ কমে গিয়ে নিয়মনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের পরিপত্র অনুযায়ী বিনা ভিসায় আগত বিদেশিদের ক্ষেত্রে আগমনী ভিসার শর্ত কঠোরভাবে প্রয়োগের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। 

নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের জন্য ভিসায় বিশেষভাবে ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ’ সিল দেওয়ার এবং ভিসা ফি মওকুফের নির্দেশ আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নিবন্ধন, অনুমোদন ও তদারকি কাঠামোর মধ্য দিয়ে তাদের কার্যক্রমও নিয়ন্ত্রিত পরিসরে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশে আগমনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ক-দুই দিক বিবেচনায় রেখেই এই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিমানবন্দর, স্থল ও নৌবন্দরে ভিসা প্রদান ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে স্পেশাল ব্রাঞ্চ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনের বিদেশি আগমন ও প্রস্থানের তথ্য এক্সেল ফরম্যাটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে, যা থেকে বিদেশিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে একটি রিয়েল টাইম ডেটাবেইস গড়ে তোলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ও গণভোটের মতো সংবেদনশীল সময়ে ভিসা ব্যবস্থাপনাকে সরকার জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি যেমন নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়, তেমনি তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রিত ও নথিবদ্ধ রাখার বিষয়েও সরকারের আগ্রহ স্পষ্ট। সর্বশেষ নির্দেশনাগুলোকে এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন তারা।

এসএইচ 

Link copied!