বিশ্বনবী (সা.)-এর যে কথা গোপন রেখেছিলেন আনাস (রা.)

  • ধর্মচিন্তা ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
বিশ্বনবী (সা.)-এর যে কথা গোপন রেখেছিলেন আনাস (রা.)

বিশিষ্ট তাবেয়ি সাবিত (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস (রা.) বলেছেন,  একবার মহানবী (সা.) আমার কাছে আসলেন, তখন আমি সমবয়সী ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করছিলাম। তিনি আমাদের সালাম দিলেন এবং আমাকে একটি বিশেষ প্রয়োজনে (কাজে) পাঠালেন। তাই বাড়িতে আমার মায়ের কাছে ফিরতে আমার দেরি হয়ে যায়।

তারপর আমি যখন বাড়ি ফিরলাম, মা জিজ্ঞেস করলেন, এত দেরি হলো কেন?' আমি বললাম, 'মহানবী (সা.) আমাকে একটি কাজে পাঠিয়েছিলেন।' মা জিজ্ঞেস করলেন, 'কী কাজ ছিল সেটা?' আমি বললাম, 'সেটি একটি গোপন বিষয়।'

এটা শোনে মা বলেছিলেন, 'তাহলে মহানবী (সা.)-এর গোপন কথা তুমি কখনোই কারো কাছে প্রকাশ করবে না।'

আনাস (রা.) তাঁর ছাত্র সাবিত (রা.)-কে লক্ষ্য করে বলেন, 'হে সাবিত! আল্লাহর কসম, আমি যদি সেই গোপন কথাটি দুনিয়ার কারো কাছে প্রকাশ করতাম, তবে অবশ্যই তোমাকে তা বলতাম।' (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৪৮২)
 
শিক্ষা ও বিধান 

১. গোপনীয়তা রক্ষা করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ। কেউ বিশ্বাস করে কোনো কথা গোপন রাখতে বললে তা যথাযথভাবে গোপন রাখা উচিত। আনাস (রা.) মহানবী (সা.)-এর গোপন কথা কাউকে বলেননি।

২. গোপন কথা, ব্যক্তিগত তথ্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব আমানতের অন্তর্ভুক্ত। তাই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

৩. শিশুদের মধ্যেও উত্তম চরিত্র গড়ে তোলা উচিত। আনাস (রা.) ছোটবেলা থেকেই মহানবী (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, শৈশব থেকেই শিশুদের সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা ও গোপনীয়তা রক্ষার শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।

৪. মা-বাবার উপদেশ সন্তানের চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখে। আনাস (রা.)-এর মা তাঁকে মহানবী (সা.)-এর গোপন কথা প্রকাশ না করার উপদেশ দিয়েছিলেন। এ থেকে বোঝা যায়, সন্তানদের নৈতিকতা ও উত্তম চরিত্র গঠনে মা-বাবার সঠিক দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৫. সব কথা সবার কাছে প্রকাশ করা সমীচীন নয়। মানুষের জানা সব কথা অন্যকে জানানো প্রয়োজন হয় না। বিশেষ করে কোনো কথা গোপন রাখার অঙ্গীকার থাকলে তা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে কোনো গোপনীয়তা অন্যায়, নির্যাতন বা কারও ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হলে যথাযথ সহায়তা নেওয়া জরুরি।

সারকথা, মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। একজন প্রকৃত মুমিন নিজের কথা ও কাজে বিশ্বস্ততার পরিচয় দেন এবং অন্যের গোপনীয়তা রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন।

এম

Link copied!