ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে মাঠের বাইরে নানাবিধ ঘটনার আধিপত্য থাকে। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে ভারতের আধিপত্যের কোনও বিকল্প থাকে না। সেটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবারও দেখা গেলো। কলম্বোতে পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে গ্রুপ-এ থেকে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে ভারত। তিন ম্যাচে ভারত তিনটিতে জিতে শীর্ষে উঠে গেছে। এটি আবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের বড় জয়ের রেকর্ড!
১৭৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে পাকিস্তান। ১৮ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে গেছে।
অথচ এই ম্যাচ হওয়া নিয়েই শঙ্কা ছিল। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। শেষ পর্যন্ত হাজার কোটি টাকা ক্ষতির শঙ্কায় বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে কোনও নতুনত্ব দেখাতে পারেনি সালমান আগার দল।
শুরুতে টস হেরে ইশান কিশানের ৪০ বলে ৭৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান করে ভারতীয় দল। এদিন অবশ্য টসের সময় দুই দলের অধিনায়ক আবারও হ্যান্ডশেক এড়িয়ে গেছেন। ব্যাটিংয়ের শুরুতে পেটের সমস্যায় ভুগে ফেরা ওপেনার অভিষেক শর্মা চার বল খেলে রানের খাতা না খুলে বিদায় নিয়েছেন। সঙ্গীর বিদায়ে বিচলিত না হয়ে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চড়াও হন কিশান। ২৭ বলে ফিফটি পূরণ করেন তিনি। তাতে ছিল দুটি ছক্কা ও সাতটি চার। দাপট দেখানো কিশানকে থামান স্পিনার সাইম আইয়ুব।
কিশান এতটাই আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন যে ৮.৪ ওভারে ভারতের ২ উইকেটে করা ৮৮ রানের মধ্যে ৭৭ রানই ছিল তার। ইনিংসে তিনি মারেন তিনটি ছক্কা ও ১০টি চার।
কিশান ক্রিজে থাকাকালীন ভারতের স্কোর ২০০ ছাড়াবে বলেও মনে হচ্ছিল। কিন্তু তার বিদায়ের পর ম্যাচে ফেরে পাকিস্তান। ১৪ ওভারে দ্বিতীয় ড্রিংকস বিরতিতে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১২৫।
২৫ রান করা তিলক বর্মা এলবিডাব্লিউ হয়ে আইয়ুবের দ্বিতীয় শিকার হন। পরের বলেই স্লগ করতে গিয়ে ডিপে ক্যাচ দেন হার্দিক পান্ডিয়া। তার বিদায়ে পড়ে চতুর্থ উইকেট। তাতে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পান আইয়ুব।
হ্যাটট্রিক বলেও আউট হতে বসেছিলেন শিভম দুবে। শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি। অপর দিকে নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে দাঁড়িয়ে উইকেট পতন দেখছিলেন অধিনায়ক সূর্যকুমার। তার পরও দলকে দেড়শ পার করান তিনি। কিন্তু ২৯ বলে ৩২ রান করে ১৯তম ওভারে স্পিনার উসমান তারিককে ছক্কা মারতে গিয়ে মিডউইকেট বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন তিনি। তাতে ভারতের সংগ্রহ বেশি হয়নি।
শেষ ওভারে ২৭ রান করে রানআউট হন দুবেও। শেষ বলে শূন্য রানে ফেরেন অক্ষর প্যাটেল। অপর প্রান্তে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু সিং। সব মিলে ভারত ৭ উইকেটে ১৭৫ রানে থেমেছে।
ভারতকে দুইশ রানের নিচে আটকে রাখলেও সেটার স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি পাকিস্তানের। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওভারের মধ্যেই ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধসে পড়ে তারা।
হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ফেরেন ফর্মে থাকা ওপেনার সাহেবজাদা ফারহান। জসপ্রীত বুমরার একই ওভারে বিদায় নেন সাইম আইয়ুব ও অধিনায়ক সালমান আগাও। তাতে মুহূর্তেই চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। পাঁচ রান করে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বাবর আজমও। পাওয়ারপ্লে শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৩৮।
এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে খেলেছেন উসমান খান। ৩৪ বলে ৪৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও শেষ পর্যন্ত অক্ষর প্যাটেলর কৌশলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে স্টাম্পড হন তিনি। তার আউটেই কার্যত পাকিস্তানের ক্ষীণ সম্ভাবনাটুকুও শেষ হয়ে যায়। তাছাড়া উল্লেখযোগ্য ১৯ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন শাহীন আফ্রিদি।
বল হাতে ভারতের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন হার্দিক পান্ডিয়া, জসপ্রীত বুমরা, অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তী।
এম
আপনার মতামত লিখুন :