আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ভারতে স্কুল-কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ভারতে স্কুল-কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি করছে একটি গভীর নিম্নচাপ। সম্ভাব্য শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ভারতের পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালের মধ্যে নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পরবর্তীতে আগামী ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা দিয়ে এটি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। উদ্ভূত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলীয় রাজ্য ওড়িশা সরকার ইতোমধ্যে ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার প্রস্তুতি শুরু করেছে।

আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজ্যের গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি-এই পাঁচটি জেলায় আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর সমস্ত স্কুল, কলেজ ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য জেলাগুলোতে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজের প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনের সব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের জন্য ওড়িশা দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর প্রায় ৬০টি দল, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) ১৭টি দল এবং দমকল বাহিনীর ২২৫টি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূল ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে ওড়িশার পাঁচ জেলায় ‘লাল সতর্কতা’ (রেড অ্যালার্ট) জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কোনো কোনো এলাকায় ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগরে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নিম্নচাপের প্রভাবে ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির একাধিক এলাকায় টানা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শহরের নিচু এলাকায় পানি জমে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পুদুচেরির কোস্ট রোড, কৃষ্ণনগর ও লাসপেটসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। সতর্কতার অংশ হিসেবে চেন্নাই, নাগাপট্টিনম, কুড্ডালোর, কারাইকাল, পাম্বান ও তুতিকোরিনসহ ভারতের একাধিক সমুদ্রবন্দরে বিশেষ সতর্ক সংকেত টাঙানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের এই গভীর নিম্নচাপটি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এর নাম হবে ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত। তবে উপকূলে প্রবেশের আগে ঝড়ের গতিপথ, শক্তির মাত্রা এবং সঠিক স্থান পরিবর্তন হতে পারে কি না, সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। উপকূলের বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

এসএইচ 

Link copied!