ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা: উপকূলে বৃষ্টি, কৃষকদের ধান কাটার তাগিদ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা: উপকূলে বৃষ্টি, কৃষকদের ধান কাটার তাগিদ

ফাইল ছবি

মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করে চলেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ ও গভীর নিম্নচাপের ধাপ পার হয়ে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি)-এর পৃথক বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি। বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা আপাতত কম থাকলেও, এর পরোক্ষ প্রভাবে দেশজুড়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বিডব্লিউওটি জানায়, আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপটি আরো শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক পূর্বাভাস হওয়ায় গতিপথ, শক্তি ও সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত না হানলেও এর প্রভাবে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর থেকে ১ ও ২ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হতে পারে। এতে সারা দেশের নানা স্থানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্ভাব্য দুর্যোগময় আবহাওয়ার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সম্ভাব্য বৃষ্টির কারণে কৃষি খাতে ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে যাদের জমির ধান পেকে গেছে, তা আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যারা শীতকালীন সবজি চাষ বা বীজতলা তৈরির পরিকল্পনা করছেন, তাদের বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত তা স্থগিত রাখার তাগিদ দিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাটি।

এসএইচ 

Link copied!