• ঢাকা
  • শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০

তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিলো ঢাকসাস


নিজস্ব প্রতিনিধি ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৩, ০৮:১৮ পিএম
তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিলো ঢাকসাস

ঢাকা : ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে ঢাবি অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের প্রায় ৩শ শিক্ষার্থী পেল দুই দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ। গত ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কলেজের শহীদ আ ন ম নজিব উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এ জেড ভূঁইয়া আনাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ। কর্মশালা উদ্বোধন করেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ।

পিআইবি মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ বলেছেন, ১৯৪৭ সালের আগে দেশে কোন সংবাদ পত্র ছিল না। পরে কলকাতা থেকে আজাদ আসল। এর পর পর কয়েকটি পত্রিকা আসে। যদিও সে সময় যারা সাংবাদিকতা করতেন, তারা ছিলেন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। অনেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে পত্রিকার আশ্রয় নিতেন। বাংলাদেশে সাংবাদিকতার বিকাশটা এখনও সে অর্থে ঘটেনি। গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসতে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) সাংবাদিকতার উপর ডিপ্লোমা এবং মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়াও নানা কোর্স চালু রয়েছে। যদিও বিশ্বের আর কোথাও সরকারি অর্থায়নে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ দেয়না।

জাফর ওয়াজেদ বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর সংবাদ পত্রের কিছুটা বিকাশ ঘটেছে। একুশ শতকে এসে সংবাদপত্রে আরও বিকাশ ঘটেছে। এটা শুধু শিল্পই নয়, ইলেকট্রনিক অনলাইন মিডিয়া সহ তথ্য প্রযুক্তিররও বিকাশ ঘটেছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এসেছে। আগামীতে কি হবে আমরা জানিনা। তবে আমাদের সাংবাদিকদের তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বিকাশ ঘটতে না ঘটতেই পঞ্চম শিল্প বিপ্লব এসে গেছে। এ তথ্য প্রযুক্তির সাথে সংঙ্গতি রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা চাই তথ্য প্রযুক্তির সাথে সাথে আমাদের সাংবাদিকরা যেন পিছিয়ে না যায়। তাদের অগ্রসর রাখতে পারি। প্রযুক্তি এসে গণমাধ্যমে একটা উলটপালট এসে গেছে। যা আরও হবে। গণমাধ্যমের এ বিবর্তনের সময় নিজের যোগ্য করে তুলতে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।  

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) তে সাংবাদিকতার উপ ডিপ্লোমা এবং মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। মাস্টার্স কোর্সের প্রথম পর্ব আছে, এবার আমরা দ্বিতীয় পর্বের জন্য অনুমোদন পেয়েছি। সেখানে আমাদের শুক্র-শনিবারে ক্লাস। যা সম্পূর্ণ পেশাজীবীদের জন্য। সাংবাদিকতা নিয়ে যখন নেতিবাচক ধারণা সবার এমন সময়ে ঢাকা কলেজ সাংবাদি সমিতির কর্মশালায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের দেখে বুকটা ভরে গেছে। সাংবাদিকতায় তাদের এতটা আগ্রহ। এ আগ্রম আমাদের সময়েও ছিল। যদিও এখনকার শিক্ষার্থীরা ঠিক মত সংস্কৃতির চর্চা করেননা। 

ঢকা কলেজের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, আমার সৌভাগ্য ঢাকা কলেজে আমি যাদের সাথেই পড়েছি তারাই পরবর্তী জীবনে বিখ্যাত হয়েছেন। আমি সেই বিখ্যাত ব্যক্তিদের একজন বন্ধু। ৪৯ বছর আগে অমি যখন ঢাকা কলেজে ভর্তি হতে আসি, নোটিশ বোর্ডে দেখতে আসি আমার নাম আছে কিনা। আমাদের সময় নোটিশ বোর্ডে মেধাবী শিক্ষার্থীদের নাম থাকত। যেখানে প্রথম বিশ জনের নাম থাকত। কোন কোন শিক্ষক পড়িয়েছেন তাদের নাম থাকত। এ বিশ জনের নাম পত্রিকায়ও ছাপা হত। পরবর্তীতে তাদের মা-বাবা সহ তাদের ইন্টারভিউ হত। এখন এসব উঠে গেছে। আমরা এখন আর মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে পাই না।

কলেজ জীবন থেকে সাহিত্য চর্চার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, কলেজে উঠার পর থেকে আমি সাহিত্য লেখা শুরু করি। স্কুল জীবন থেকেই চাঁদের হাঁট, কুচিকাচা, খেলাঘরে লিখতাম। লিখে লিখে হাত মশক করেছি সেই ছোট থেকেই। কলেজে জীবনে একটি লিটাল ম্যগাজিন বের করি। যার নাম পেন্ডুলাম। যেখানে ঢাকা শহরের প্রায় সব কবির কবিতা ছাপা হয়। এর সুবাধে ঢাকা শহরের কবিদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া এবং তারা কোন পরিবেশে থাকেন। কবিদের কাছ থেকে দেখেছি। আমাদের শিক্ষক ছিলেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। স্যার ছাত্রদের কাজে লাগাতেন। আমাদের সময় কবিদের আড্ডা হত নিউমার্কের মনিকো নামে একটা চায়ের দোকানে। ওই চায়ের দোকানের যিনি চা দিতেন তিনও একজন কবি ছিলেন। তিনি কবি রফিক সিদ্দিকী। সেখানে একটা ভাল আড্ডা হত। বিশেষ করে ছুটির দিনে। আমাদের ছুটি ছিল রোববার। নিউমার্কেটে তখন বইয়ের দোকানই ছিল বেশি। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ। ঢাকা কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আব্দুল কুদ্দুস শিকদার, এএফফি ব্যুরো চিপ শফিকুল আলম, চ্যানেল আই বিশেষ প্রতিনিধি মোস্তফা মল্লিক, দ্য ডেইলি স্টারের সাহিত্য সম্পাদক ইমরান মাহফুজ। 

দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যমুনা টেলিভশনের বিশেষ প্রতিনিধি মেহসীন-উল হাকিম, ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক মঞ্জুরুল করিম, সমকাল বিশেষ প্রতিনিধি ওবায়েদুল্লাহ রনি, কালের কন্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক শাহাদাৎ স্বপন, কালবেলা জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সানাউল হক সানী, বিজনেস পোস্ট জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নিয়াজ মাহমুদ, মোজ সাংবাদিক যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ ও একন টিভি নিজস্ব প্রতিবেদক বেলায়েত হোসাইন সহ আরও অনেকেই।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

Wordbridge School
Link copied!