• ঢাকা
  • রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

গুমের বিরুদ্ধে নতুন আইন, কতটুকু নিরপেক্ষ থাকবে বিচার?


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
গুমের বিরুদ্ধে নতুন আইন, কতটুকু নিরপেক্ষ থাকবে বিচার?

ছবি: প্রতীকী

গুমকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এই ১০৭ নম্বর আইনে কঠোর শাস্তি, ভুক্তভোগী ও স্বজনদের ক্ষতিপূরণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারের বিধান রাখা হয়েছে। তবে আইন প্রণয়ন হলেও এর কার্যকর প্রয়োগ, স্বাধীন তদন্ত ও কমান্ড কাঠামোর দায় নির্ধারণের বিষয়টি ঘিরে বড় ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আইনের বড় এক সীমাবদ্ধতা ২৪ ঘণ্টার হিসাব নির্ধারণে। নীতিগতভাবে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর কাউকে গোপনে আটকে রাখা গুম গণ্য হলেও, গ্রেফতারের বিষয়টি যদি শুরুতেই সরকারি নথিতে না ওঠে, তবে সময়সীমা প্রমাণের উপায় থাকে না। আটক-নিবন্ধনের বাধ্যতামূলক ও স্বাধীন ব্যবস্থা না থাকলে প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সাধারণ তদন্ত কাঠামো কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অধ্যাদেশের খসড়ায় গোপন আটককেন্দ্র পরিদর্শন ও সুরক্ষার যে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ছিল, চূড়ান্ত আইনে তার পরিধি নিয়ে দ্বিমত রয়েছে।

পাশাপাশি ঊর্ধ্বতনের আদেশ পালনকে দায়মুক্তির ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্টতার অভাব দেখা দিয়েছে। নির্দেশদাতা ও নির্দেশ পালনকারীর দায় আলাদাভাবে নির্দিষ্ট না থাকলে প্রশাসনিক কমান্ড ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা বেঁচে যেতে পারে।

আইনে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও তদন্তের দুর্বলতার কারণে তা যেন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ না থাকে। কারণ গুম হওয়া ব্যক্তির স্বজনদের প্রধান দাবি শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, সত্য জানার অধিকার।

সব মিলিয়ে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর সাফল্য কঠোর শাস্তির বিধানে নয়, বরং প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের সক্ষমতায় পরীক্ষা হবে।

এসএইচ 

Link copied!